সংবাদ সমগ্র
আল-ফিরদাউস সংবাদ সমগ্র || জুন, ২০২৩ঈসায়ী
আল-ফিরদাউস
সংবাদ সমগ্র
জুন, ২০২৩ঈসায়ী
সৎ সৎ সৎ সৎ সৎ সৎ সৎ সৎ সৎ সৎ সৎ সু সৎ সৎ সুত সুত
by
৩4?
ALFIRDAWS NEWS
আল-ফিরদাউস সংবাদ সমগ্র || জুন, ২০২৩ঈসায়ী
৩০021 ভুতা০05777677285767555855757757554187575587-6757-2755785881457441875787555555528557776778 ৪
হান 55555874555 4475874555 ৫
lrg a TERE oo» Ao TE ET US EET SS TE SES CTT TET TE ETT HATE TTT ৭
উঠান oN ITN SE PT EET EE CTT OE OE OEE TE POO COTES ES SE CET ৯
১১০8: One i a ante tnd HANG AEE রবার্ট ETE CEES TAT র্যা র্রারারন্রারা রানার ১৫
Sol UG PR Los TE TTT TT TET TT TEEN CTO TE UT THEE TT EEE EET ১৬
SING ROR et 0s sr ler EDT SL ELC AIL NEO NEL LEE EOI EN BELL TCL LL ২২
Lo) Ea Rc Cs BE Co So TET ES CT TS US TN TTS UT TEES ২৭
AT Ed MS EEE = 011 BEET ETS TE TEU ET UH OE TET IT OE EC EET EEE ২৮
NSE Soo EI CTE UNE CE SOE CU PETC TNT UNE CRE HOE) EEE ৩২
১৫ জুন, ২0২৩০০০০ REC রান রারার্রযাযূ ররর র্যা রানার ৩৫
১:১-771-১১টারাটারালারর্রারটার্ানার্যাযার্া নার es Glo ness aa Ede La Bean Toe TOUTE রা র্রান্রারারান্ন। ৩৬
১55 নররাররেদারর রা ররর রারারাররাররারারারবার কারো ররর র্যা র্যাররর্রারা ররর ৩৯
হন 277475775755577777555775858755775547555718 ৪১
S১১২ জুন: ারাহ্যার্কা রে রা রানা রারেরা ররর ররর র্যা রর রতয় রাহা রা 88
০৮ই জুন, ২০২৩... 88
ol oN RSET OT SEU TUES TES. NEES OE CT EEO HES TEE HOES EEE 8৫
ON জন) ২০২৩১১১2১০৫ RADE hE ELE EARLE tale Bee ce Da EEL EAR ৪৮
আল-ফিরদাউস সংবাদ সমগ্র || জুন, ২০২৩ঈসায়ী
৩০শে জুন, ২০২৩
কারাবন্দীদের জন্য ইমারতে ইসলামিয়্যার প্রশংসনীয় উদ্যোগ
অধিদপ্তরের সামরিক সহকারী মেজর জেনারেল কারী হাবিবুল্লাহ বদর ৷ কারা অধিদপ্তরের ১২৪ জন অফিসার ও
প্রহরীদের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে এই মন্তব্য করেন তিনি।
মেজর জেনারেল বদর বলেন, আফগানিস্তানের কারাগারগুলোতে কোনো বন্দীকেই শারীরিক বা মানসিক নির্যাতন
করা হয়নি। সর্বোচ্চ নেতার আদেশ অনুযায়ী কারাবন্দীদের সাথে ভালো ব্যবহার করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ইসলামি ইমারত সরকার বন্দীদের সেলাই ও ধাতব কাজের পেশাগত প্রশিক্ষণের পাশাপাশি
পবিত্র কুরআন মুখস্থকরণের প্রজেক্ট হাতে নিয়েছে। মুক্তির পর যেন বন্দীরা সমাজে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে
পারে এবং সকল ধরনের অপরাধ থেকে দূরে থাকতে পারে, সেই ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে বলে জানান মেজর
জেনারেল কারী হাবিবুল্লাহ বদর।
জেনারেল আব্দুল ওয়াহিদ বলেন, ৩৪ টি প্রদেশ থেকে ১২৪ জন কারা-কর্মকর্তাকে পেশাগত প্রশিক্ষণের জন্য
আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তারা দুই মাসের কোর্স সমাপ্ত করার পর নিজেদের প্রদেশে ফিরে গিয়ে দায়িত্ব পালন
করবেন।
ঘটনা নিয়ে বিশ্বের সবচেয়ে ভয়ংকরতম কারাগারগুলোর মধ্যে অন্যতম হয়ে উঠেছিল। সেই আমলে বাগরাম সহ
আফগানিস্তানের অন্যান্য কারাগারগুলোর নাম শুনলেই মেরুদণ্ডে শীতলতা নেমে আসতো। সরকার নিয়ন্ত্রিত
অন্যান্য কারাগারগুলোর অবস্থাও এর থেকে ভিন্ন ছিল না।
কিন্তু পশ্চিমা শক্তিকে হটিয়ে তালিবান মুজাহিদিন ক্ষমতা গ্রহণের পর দেশজুড়ে ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক ইসলামি
শরিয়ার শাসন কায়েম করেছেন। এর মাধ্যমে তাঁরা কারাগারগুলোকেও পরিণত করেছেন প্রকৃত সংশোধনাগারে।
তথ্যসূত্র:
1 No Cases of Torture in the Country's Prisons: Officials
- https://tinyurl.com/mr49fmxk
0)
gE
আল-ফিরদাউস সংবাদ সমগ্র || জুন, ২০২৩ঈসায়ী
২৯শে জুন, ২০২৩
'আমাদের সংগ্রাম ছিল ইসলামী শরিয়ার জন্য'
ইমারাতে ইসলামিয়া আফগানিস্তান প্রশাসনের সর্বোচ্চ নেতা আমিরুল মুমিনিন শায়খুল হাদীস মৌলভি হিবাতুল্লাহ
আখুন্দজাদা (হাফি.) ১৪৪৪ হি. সনের পবিত্র ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষে একটি বার্তা প্রকাশ করেছেন। যেখানে
এবং মোবারকবাদ জানিয়ে মহান রবের দরবারে কল্যাণের প্রার্থনা করেছেন।
ঈদ উপলক্ষে দেয়া এই বার্তায় আমিরুল মুমিনিন বলেন, এই ঈদ এমন এক সময়ে আসছে যখন দেশে পূর্ণ
শান্তি, শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা রয়েছে, ইসলামী শরিয়াহ্ ব্যবস্থা বলবৎ রয়েছে এবং সে অনুযায়ী আইন বাস্তবায়ন
করা হচ্ছে।
এসময় তিনি সারা বিশ্ব বিশেষ করে মুসলিম দেশগুলোর সঙ্গে আফগানিস্তানের সুসম্পর্ক গড়ে তুলতে চান বলে
অভিমত প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, "ইমারাতে ইসলামিয়া প্রশাসন চায় বিশ্বের সাথে, বিশেষ করে মুসলিম
দেশগুলোর সাথে ভালো অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সম্পর্ক। তবে আমরা যেমন অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে
হস্তক্ষেপ করি না, তেমনি অন্যকেও আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার জন্য বলি এবং কোনো কিছু
চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা না করতে বলি ৷"
আফগানিস্তানে বছরের পর বছর ধরে চলমান যুদ্ধের শেষে দেশে একটি ইসলামি প্রশাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে
উল্লেখ করে তিনি বলেন, "আমরা যার জন্য জিহাদ করেছি এবং অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছি তা হল ইসলামি
শরিয়ার বাস্তবায়ন এবং একটি ইসলামী প্রশাসন প্রতিষ্ঠা করা। আলহামুদুলিল্লাহ্, এই লক্ষ্যটি এখন বাস্তবায়িত
হয়েছে"
তিনি আরও বলেন, "ইমারাতে ইসলামিয়া প্রশাসনের দ্বারা আফগানিস্তানের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব আরও
শক্তিশালী হয়েছে। দেশের শুল্ক ও রাজস্ব বৃদ্ধি পেয়েছে। সেই সাথে খনিজ সম্পদ, রাষ্ট্রীয় কোষাগারের জমি, বন
এবং অন্যান্য জাতীয় সম্পদ যুদ্ধবাজদের কাছ থেকে পুনরুদ্ধার করা হয়েছে। এখন এসব কিছু রাষ্ট্রীয় সম্পদ
হিসাবে সুরক্ষিত আছে৷"
বার্তায় তিনি সমগ্র মুসলিম উম্মাহকে উদ্দেশ্য করে বলেন, "আমি সমগ্র ইসলামী উম্মাহকে ইমারাতে ইসলামিয়া
আফগানিস্তান ও এর জনগণের কল্যাণের জন্য দোয়া করতে বলি, যাতে আল্লাহ আমাদের সবাইকে দুনিয়া ও
আখিরাতে সুখ, শান্তি এবং সমৃদ্ধি দান করেন ৷"
এতিহ্যগত নিপীড়নের অবসান ঘটাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে এবং ইসলামী আইন দ্বারা মহিলাদের জন্য
নির্ধারিত অধিকারগুলি সুরক্ষিত করা হয়েছে। এমনিভাবে ইসলামী শরিয়া অনুযায়ী নারীদের আরও সমৃদ্ধ
জীবনযাপন ও উন্নতি নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।"
0)
আল-ফিরদাউস সংবাদ সমগ্র || জুন, ২০২৩ঈসায়ী
ইমারাতে ইসলামিয়া প্রতিষ্ঠার পর দেশে কিসাস ও রজমের মতো কিছু শরিয়াহ আইন পুরোপুরি ভাবে কার্যকর
করতে কিছুটা সময় নিয়েছিল তালিবান প্রশাসন। বিষয়টি নিজ বক্তৃতায় উল্লেখ করে তিনি বলেন, "শরিয়ার
বিধান, যা কিছু সময়ের জন্য আমাদের দেশে প্রয়োগ করা সম্ভব ছিল না, এখন তা বাস্তবায়িত হচ্ছে।"
তালিবান ক্ষমতায় আসার পর, অনেক পশ্চিমা বিশ্লেষক ও সাংবাদিকরা মিডিয়া পাড়ায় এই বলে হৈচৈ ফেলে
দিয়েছিল যে, খুব শীগ্রই আফগানিস্তান একটি বড় অর্থনৈতিক সংকটের সম্মুখীন হবে। কিন্তু বাস্তবে এমনটি
ঘটেনি।
এবিষয়ে আমিরুল মুমিনিন বলেন, আল্লাহর রহমতে আফগানিস্তান নিয়ে বিশ্বের ভবিষ্যদ্বাণী ভুল প্রমাণিত হয়েছে,
তাদের সমস্ত প্রোপাগান্ডা ব্যর্থ হয়েছে। আফগানিস্তান এখন একটি অর্থনৈতিকভাবে স্বয়ংসম্পূর্ণ ও শক্তিশালী
দেশ। আমরা দেশে এখন বিভিন্ন নির্মাণ ও অর্থনৈতিক প্রকল্পের সফলতা প্রত্যক্ষ করছি।
আমিরুল মুমিনিন আরও বলেন, কয়েক দশক ধরে চলা যুদ্ধ শত সহস্র মানুষকে অনাথ, বিধবা এবং দরিদ্রতার
দিকে ঠেলে দিয়েছে। ইমারাতে ইসলামিয়া প্রশাসন এসমস্ত লোকদের পাশে দাড়াতে এবং অধিকার সুরক্ষিত
করতে বদ্ধপরিকর হয়ে কাজ করছে।
আমিরুল মুমিনিন আরও যোগ করেছেন যে, "আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ছাড়াই ইমারাতে ইসলামিয়া প্রশাসন
মাদকের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে। আর তাদের অব্যাহত এই প্রচেষ্টার ফলে দেশে পোস্ত চাষ বিলুপ্ত হয়েছে,
কৃষকরা বিকল্প চাষে মনোনিবেশ করছেন এবং বৈধ চাষাবাদের দিকে ঝুঁকেছেন।"
করেন।এরপর তিনি বলেন, "তাই এই ব্যবস্থাকে রক্ষা করা আমাদের সকল নাগরিকের দায়িত্ব। তাই আসুন
একে অপরের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করি। আসুন ষড়যন্ত্র নির্মূল করি। আসুন নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধির পরিবেশকে
আরও প্রসারিত করতে একসঙ্গে কাজ করি ৷"
আমিরুল মুমিনিন তাঁর বার্তার শেষাংশে মুসলিম বিশ্বের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন। তিনি ফিলিস্তিন
বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে বলেন, "আমরা ফিলিস্তিনি নারী, শিশু এবং নিরাশ্রয় মুসলমানদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের
নৃশংস কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানাই। সেই সাথে আমরা এই আশা করি যে, অন্য দেশগুলোও এবিষয়ে
বাস্তবসম্মত প্রতিক্রিয়া জানাবে ৷"
তিনি সুদানের জনগণ এবং প্রশাসনকে তাদের মতভেদ দূরে সরিয়ে ভ্রাতৃত্বের জন্য একসাথে কাজ করতে
বলেন। তিনি বলেন, ইসলামী উম্মাহর সমস্যার সমাধান এঁক্য ও সংহতির উপর নির্ভর করে।
সর্বশেষ তিনি মহান রবের কাছে মুসলিম উম্মাহর জন্য এই দো'আ করেন যে, "আল্লাহ তাআ'লা যেন আমাদের
রর
আল-ফিরদাউস সংবাদ সমগ্র || জুন, ২০২৩ঈসায়ী
২৮শে জুন, ২০২৩
আল-ফিরদাউস নিউজ বুলেটিন || জুন ৪র্থ সপ্তাহ, ২০২৩ ঈসায়ী ||
https://alfirdaws.org/2023/06/28/63581/
জাতিসংঘ ও পশ্চিমা দেশগুলো ইমারতে ইসলামিয়্যার বিরুদ্ধে ব্যাপক প্রোপাগান্ডা চালাচ্ছে :
জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ
জাতিসংঘের আফগানিস্তান বিষয়ক মানবাধিকার কমিশনের বিশেষ প্রতিবেদক রিচার্ড বেনেট সাম্প্রতিক একটি
রিপোর্টে ইমারতে ইসলামিয়্যা আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে প্রোপাগান্ডা চালিয়েছে। ইমারতে ইসলামিয়্যা কর্তৃপক্ষ এই
রিপোর্টকে দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং একে ভিত্তিহীন প্রোপাগান্ডা বলে আখ্যায়িত করেছেন।
২০২৩ সালের জুন মাসে রিচার্ড বেনেট আফগানিস্তানে নারীদের নিয়ে প্রকাশিত তার প্রোপাগান্ডামূুলক রিপোর্টে
ইসলামি ইমারতের ইসলামি আইন অনুযায়ী নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপকে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করেছেন।
নারীদের সুইমিং পুল, জিমে যাওয়া বন্ধ করার ব্যাপারটিকে দেখিয়েছে মানবাধিকারের লঙ্ঘন হিসেবে।
এ বিষয়ে ইসলামি ইমারতের মুখপাত্র জাবিহুল্নাহ মুজাহিদ বলেন, “ইমারতে ইসলামিয়্যার বিরুদ্ধে ব্যাপক
প্রোপাগান্ডা চলছে। জাতিসংঘ ও অন্যান্য পশ্চিমা দেশগুলো এই প্রোপাগান্ডা চালাচ্ছে।”
মুজাহিদ বলেন, রিচার্ড বেনেট আফগানিস্তানের পরিস্থিতি নিয়ে যে রিপোর্ট প্রকাশ করেছে, সেটিও এই
প্রোপাগান্ডার অংশ। তার এই রিপোর্ট বাস্তবতা বিবর্জিত। তিনি আরও বলেন, আফগানিস্তানে ইসলামি আইন
বাস্তবায়িত হবে। আর এই আইনের প্রতি আপত্তি ইসলামের অবাধ্য হওয়ার নামান্তর ৷
আফগানিস্তানে ইসলামি আইনের বাস্তবায়ন ও শান্তি-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ইমারতে ইসলামিয়্যা ইসলামি আইন
অনুযায়ী নারী-পুরুষের জন্য পৃথক সময়ের ভিত্তিতে বিনোদনের ব্যবস্থা করেছিল। কিন্তু সেটা যথাযথভাবে না
মানায় পরবর্তী সময়ে আরও কিছু বিধি-নিষেধ আরোপ করা হয়। ইসলাম পর্দা ও অন্যান্য আইনের মাধ্যমে
নারীর সুরক্ষা নিশ্চিত করে। ইমারতে ইসলামিয়্যাও নারীর সুরক্ষা নিশ্চিতকরণে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন।
কিন্তু পশ্চিমাগোষ্ঠী এটিকে নারীর বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘন হিসেবে দেখছে।
অথচ তাদের নিজেদের দেশগুলোতে নারীরা সবচেয়ে বেশি নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছে। বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য
পরিসংখ্যানে পশ্চিমা সংস্থাগুলোই দেখিয়েছে যে, সবচেয়ে বেশি ধর্ষণ ও নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে পশ্চিমা
দেশগুলোতেই। আর মুসলিম নারীদেরকেও পর্দাহীনভাবে চলতে বাধ্য করছে তারা । হিজাব পরিধানের কারণে
হয়রানি, জরিমানা ও নানা ধরনের নির্যাতন করা হচ্ছে।
7
আল-ফিরদাউস সংবাদ সমগ্র || জুন, ২০২৩ঈসায়ী
তথ্যসূত্ৰ:
1. Widespread Propaganda Runs Against IE by UN and Some World Countries: Mujahid
- https://tinyurl.com/2a89f8a8
2. Watch live: UN unveils report into situation for women and girls in Taliban-led
Afghanistan
- https://tinyurl.com/428za8px
মসজিদে ঢুকে মুসল্লিদের ‘জয় শ্রী রাম’ বলতে বাধ্য করল ভারতীয় সেনারা
মসজিদ মুসলিমদের ইবাদতের পবিত্র স্থান। তবে হিন্দুত্ববাদী ভারতীয় সেনাসদস্যদের নিপীড়ন থেকে কাশ্মীরী
মুসলিমরা ঘর বা মসজিদ কোথাও গিয়ে রেহাই পাচ্ছে না। গত ২৪ জুন শনিবার ফজরের নামাযের সময়
সেনাসদস্যরা একটি মসজিদে প্রবেশ করে। উপস্থিত মুসল্লিদের 'জয় শ্রী রাম' স্লোগান দিতে বাধ্য করে। ঘটনাটি
দক্ষিণ কাশ্মীরের পুলওয়ামা জেলার জাদুরা গ্রামের মসজিদে ঘটে ।
গ্রামবাসীর বর্ণনা অনুযায়ী, ভোরবেলা মুয়াজ্জিন রজব সাহেব মসজিদে ফজরের নামাজের আযান দেওয়ার সময়
লাউডস্পিকার চালু অবস্থায় সেনাবাহিনীর একটি দল মসজিদে প্রবেশ করে এবং তাকে 'জয় শ্রী রাম' স্লোগান
দিতে বাধ্য করে। তারা নিজেরাও এই স্লোগান দেয়।
কাশ্মীরি মিডিয়াগুলো একজন গ্রামবাসীর সূত্রে জানিয়েছে, কিছু সৈন্য স্থানীয় মুসলিম বাসিন্দাদেরকেও লাঞ্চিত
করেছে। পুলওয়ামার সিনিয়র সুপারিনটেনডেন্ট অফ পুলিশকে এই ঘটনার বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি
কলটি কেটে দেন। এরপর ডেপুটি কমিশনার বাশারত কাইয়ুম এবং পুলিশের মহাপরিচালক দিলবাগ সিংয়ের
কাছে জানতে চাইলেও তারা কোন জবাব দেয়নি ।
এ বিষয়ে পিপলস ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রধান উমর আব্দুল্লাহ টুইট করেছেন, “সেনাবাহিনীর মসজিদে প্রবেশ
করে এমন কাজ করার কথা শুনে হতবাক হয়েছি। পুলওয়ামার জাদুরার একটি মসজিদে নিরাপত্তা বাহিনীর
সদস্যদের প্রবেশের খবর গভীরভাবে উদ্বেগজনক । এটি যথেষ্ট খারাপ যে তারা সেখানে প্রবেশ করেছে। তারপরে
স্থানীয়দের "জয় শ্রী রাম" এর মতো ল্লোগান দিতে বাধ্য করেছে। এটা চরম ন্যক্কারজনক কাজ ৷"
উল্লেখ্য, ভারতীয় সংবিধান থেকে ৩৭০ ধারা বাতিল করে কাশ্মীরকে গোটা বিশ্ব থেকে একরকম বিচ্ছিন্ন করে
রেখেছে হিন্দুত্ববাদী ভারত সরকার। বিশেষজ্ঞরা ইতিমধ্যেই সতর্ক করেছেন যে, কাশ্মীর মুসলিম গণহত্যা
আল-ফিরদাউস সংবাদ সমগ্র || জুন, ২০২৩ঈসায়ী
বাস্তবায়নের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে। আর ভারতীয় সেনা সদস্যদের মসজিদে ঢুকে মুসলিমদের হিন্দুয়ানি শ্লোগান দিতে
বাধ্য করাটা হয়তো বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তাকেই সত্যায়ন করছে।
1. Kashmir: Armymen enter mosque, force Muslims to chant ‘Jai Shri Ram’, 151700090৪8,
Omar seek probe -https://tinyurl.com/32tu5emt
২৭শে জুন, ২০২৩
কোচিং সেন্টারে জামাতে নামাজ আদায় করায় মুসলিম ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার
ভারতের উত্তর প্রদেশে কোচিং সেন্টারের ভিতরে সমবেত হয়ে নামায আদায় করার জন্য একজন বয়োজ্যেষ্ঠ
মুসলিমকে গ্রেপ্তার করেছে ইউপি পুলিশ। আটককৃত মুরুব্বির নাম মৌলভী জনাব শওকত আলী। উনাকে ২৩
জুন গাজিয়াবাদের দীপক বিহার এলাকায় ইউপি পুলিশ গ্রেপ্তার করে।
এফআইআরয়ে উল্লেখ করা হয় "প্রার্থনার একটি প্রভাবশালী প্রভাব রয়েছে।" ঘটনাটি ঘটে উত্তরপ্রদেশের
গাজিয়াবাদে।
জনাব আলীর বিরুদ্ধে দায়ের করা ফার্স্ট ইনভেস্টিগেশন রিপোর্টে (এফআইআর) বলা হয়েছে যে, পুলিশ আসার
সময় তিনি ফিউচার ট্র্যাক কোচিং ইনস্টিটিউটের ভিতরে সম্মিলিতভাবে সালাত আদায় করছিলেন।
পুলিশ জানিয়েছে যে তারা হিন্দু সম্প্রদায়ের সদস্যদের কাছ থেকে একটি অভিযোগ পেয়েছে, যারা মুসলমানদের
প্রার্থনার বিরোধিতা করে। খোদা থানার এসএইচও, তিনি বলেছেন যে আলী কোচিং ইনস্টিটিউটের ভিতরে
একটি মাদ্রাসা চালাচ্ছিলেন এবং সেখানে নামাজ পড়ছিলেন।
তিনি বলেন, “২৩শে জুন, আমি বিকেলে নেহরু গার্ডেন চৌকি এলাকায় টহল দিচ্ছিলাম যখন আমি লক্ষ্য করলাম
দীপক বিহারের ফিউচার ট্র্যাক কোচিং ইনস্টিটিউটের ভিতরে মুসলিমরা নামাজ পড়তে ছিল। পরে আশেপাশের
হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকেরা প্রার্থনার বিরোধিতা করে একটি এফআই আর করে। এফআইআরটি ভারতীয়
দণ্ডবিধির ১৫৩এ এবং ৫০৫ ধারার অধীনে নথিভুক্ত করা হয়।"
মাদ্রাসা চালানো বা নামাজ আদায় করলে সমস্যা কি জিজ্ঞাসা করা হলে খোদা থানার স্টেশন হাউস অফিসার
মাকতুব মিডিয়াকে জানিয়েছে, "নামাজ পড়ার কাজটি এলাকার অন্যদের উপর প্রভাব ফেলে ৷"
ক
আল-ফিরদাউস সংবাদ সমগ্র || জুন, ২০২৩ঈসায়ী
একজন স্থানীয় বাসিন্দা যিনি নিজেও একটি কোচিং ইনস্টিটিউট চালান তিনি বলেছেন যে জনাব আলী একজন
সম্মানিত ব্যক্তি এবং অতীতে ওই এলাকার মসজিদের ইমাম ছিলেন। “আলী কোনো কোচিং ইনস্টিটিউট চালায়
না। পরিবর্তে, তিনি একটি মাদ্রাসা পরিচালনা করেন যেখানে তিনি আধুনিক জ্ঞানমূলক শিক্ষাও দেন।
সম্মিলিতভাবে প্রার্থনা করা গ্রেপ্তারের কারণ হওয়া উচিত নয় বলেও জানান তিনি। কারণ এটা কোন অপরাধ
নয়।
নিজ নিজ ধর্মীয় বিধান পালন কোন অপরাধ না হলেও ভারতীয় মুসলিমরা প্রায়ই হিন্দুত্ববাদী দলের সসদ্য ও
পুলিশ প্রশাসন মুসলিমদের হয়রানি করে চলেছে।
তথ্যসূত্র:
1. UP Police arrest Muslim man for offering collective prayer inside coaching centre; FIR
claims “prayers have an influential effect” - https://tinyurl.com/ys2phzch
ইয়েমেনে আল-কায়েদার যুদ্ধাভিযান: শত্রু শিবিরে বাড়ছে ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের সংখ্যা
আল-কায়েদা আরব উপদ্বীপ শাখা জামা'আত আনসারুশ শরিয়াহ্ (A4QAP) সাম্প্রতিক সময়ে দ্বিমাত্রিক সামরিক
অপারেশন পরিচালনার মাধ্যমে ইয়েমেন যুদ্ধের নিয়ন্ত্রণ ধীরে ধীরে নিজেদের হাতে নিচ্ছে। বিশেষ করে তাদের
ড্রোন অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে শত্রুরা তাদের মোকাবেলা করতে হিমশিম খাচ্ছে। স্থল ও আকাশপথে
তাদের এসকল অভিযানে সবচাইতে বেশি ক্ষয়ক্ষতির শিকার হচ্ছে আরব আমিরাত সমর্থিত ৩টি ভাড়াটে
মিলিশিয়া বাহিনী ।
সূত্রমতে, আল-কায়েদা ইন দ্য আ্যারাবিয়ান পেনিনসুলা (একিউএপি) "সত্যের তীর" অভিযানের অংশ হিসেবে
গত ১২ জুন থেকে ২১ জুন পর্যন্ত সময়ে ১২টি অভিযান পরিচালনার তথ্য নিশ্চিত করেছে। এতে শক্র বাহিনীর
কর্নেল পদমর্যাদা কমান্ডার সহ অসংখ্য সৈন্য হতাহত হয়েছে বলে জানা গেছে।
আল-মালাহিম মিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ইসলামি প্রতিরোধ বাহিনী একিউএপির যোদ্ধারা এসময়ের মধ্যে মিলিশিয়া
গ্রুপগ্তলোর ২টি সামরিক অবস্থান ও একটি কনভয় লক্ষ্য করে ৩টি ড্রোন হামলা চালিয়েছেন। এরমধ্যে আল-
মুসিনা'আ এলাকায় পরিচালিত একটি ড্রোন আ্যাটাকেই আমিরাতের ভাড়াটে বাহিনীর অন্তত চার সদস্য হতাহত
হয় এবং সামরিক ঘাঁটিটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বাকি আক্রমণগুলোতে শত্রু কনভয় ও সাইটে ব্যাপক হাতাহত ও
ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটে।
অপরদিকে গত ১২ জুন আল-মুখাত্তাত এলাকায় শাবওয়া ডিফেনের একটি সাইটে ত্যান্ুশ করেন একিউএপি
যোদ্ধারা। এই অভিযানের ফলে ভাড়াটে বাহিনীর একজন কর্নেল সহ অপর এক সৈন্য নিহত হয়। একই সাথে
0)
আল-ফিরদাউস সংবাদ সমগ্র || জুন, ২০২৩ঈসায়ী
অন্য আরও ৪ সৈন্য আহত হয়। এসময় শত্রুপক্ষের একটি সামরিক যান পুড়িয়ে ফেলা হয় এবং অন্য একটি
যান ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
এই অভিযানের ২দিন পর সামরিক ব্যারাকটিতে ফের ড্রোন আক্রমণ চালান মুজাহিদগণ। এতে সামরিক
ব্যারাকটিতে হাতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বেড়ে যায়।
এদিকে আবইয়ানের মুদিয়া এলাকায় ১৩ তম ব্রিগেডের একটি দলকে লক্ষ্যবস্ত করে বিস্ফোরক ডিভাইসের
বিস্ফোরণ ঘটান মুজাহিদগণ । যার ফলশ্রুতিতে সামরিক বাহিনীর একটি ট্রাক ধ্বংস হয়ে যায়। এসময় পলায়নরত
সেনাদের মধ্যে একজন আহত হয়।
এমনিভাবে ১৪ জুন তারিখে আবইয়ানের আল-বাকিরা এলাকায় একইদিনেই ৩টি অভিযান চালিয়েছেন
মুজাহিদগণ।
এর মধ্যে একটি অভিযান চালানো হয় পরপর ৩টি বিস্ফোরক ডিভাইস বিস্ফোরণের মাধ্যমে । এতে সামরিক
বাহিনীর একটি ত্যান্থুলেস ধ্বংস হয়, সেই সাথে অন্তত ২ সৈন্য নিহত এবং অন্যরা আহত হয়।
দ্বিতীয় অভিযানে মুজাহিদগণ একই এলাকার সামরিক বাহিনীর একটি দলকে টার্গেট করে ত্যান্বশ করেন।
এতেও বেশ কয়েকজন ভাড়াটে সৈন্য নিহত ও আহত হয়। তৃতীয় অভিযানটি ভাড়াটে সৈন্যদের একটি সামরিক
যানকে লক্ষ্য করে শক্তিশালী বিস্ফোরক ডিভাইসের মাধ্যমে চালানো হয়। এতে ভাড়াটে মিলিশিয়াদের সাঁজোয়া
যানটি ধ্বংস হয়ে যায় এবং তাতে আরোহী সমস্ত মিলিশিয়া সদস্য নিহত হয়।
এই অভিযানগুলোর ৪ দিন পর, ১৮ জুন তারিখে আনসারুশ শরিয়াহ্'র মুজাহিদগণ ফের আবইয়ানের আল-
বাকিরা এলাকায় আরও একবার অভিযান চালান। এই অভিযানটিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ভাড়াটে সৈন্যদের
একটি কনভয় টার্গেট করে দুটি বিস্ফোরক ডিভাইসের বিস্ফোরণ ঘটান ইসলামি প্রতিরোধ যোদ্ধারা। ফলশ্রুতিতে
সামরিক বাহিনীর একটি গাড়ি ধ্বংস এবং অন্যটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সেই সাথে অনির্দিষ্ট সংখ্যক শত্রু সৈন্য হতাহত
হয়।
মুজাহিদগণ তাদের সর্বশেষ অভিযানটি গত ২১ জুন অবিয়ানের মুদিয়া এলাকায় একটি বিস্ফোরক ডিভাইস দ্বারা
চালিয়েছেন। এই অভিযানের লক্ষ্যবস্ততে পরিণত হয়েছিল ভাড়াটে মিলিশিয়া বাহিনীর ৩য় ব্রিগেডের ১ম
ব্যাটালিয়নের সদস্যরা । এতে ৩য় ব্রিগেডের এক কমান্ডার সহ অন্তত ৭ সৈন্য হতাহত হয়েছে।
এখানে লক্ষণীয় যে, আলকায়েদা ঠিক এমন সময় তাদের অভিযান জোরদার করছে, যখন সৌদি ও আরব
শাসকরা একে একে শিয়াপ্রধান ইরানের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ঘোষণা দিচ্ছে। তবে ইয়েমেন যুদ্ধের
বাস্তবতায় এটা আগেই প্রমাণিত হয়েছে যে, আরব জোট জোরপূর্বক ক্ষমতা দখলকারী শিয়া হুথিদের বাদ দিয়ে
সুন্নি প্রতিরোধ যোদ্ধাদেরকেই তাদের প্রধান টার্গেটে পরিণত করেছে।
জি
আল-ফিরদাউস সংবাদ সমগ্র || জুন, ২০২৩ঈসায়ী
উত্তরাখণ্ডে ইসলামবিরোধী ইউনিফর্ম সিভিল কোড প্রয়োগের ঘোষণা
ভারতে সব নাগরিকের জন্য একটি অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বা ইউনিফর্ম সিভিল কোড বাস্তবায়নের আলোচনা
চলছিল অনেকদিন আগে থেকেই । এরকম কোন আইন হলে বিয়ে, বিচ্ছেদ, বা সম্পত্তির উত্তরাধিকারের মত
বিষয়গুলোর ক্ষেত্রে ভারতের মুসলিমরা নিজ ধর্ম অনুযায়ী যে ভিন্ন ভিন্ন আইন অনুসরণ করেন - তা আর থাকবে
না। ফলে মুসলিমদের অনেক শরয়ী বিধি বিধান লঙ্ঘন হবে । আর ঠিক একারণেই আইনটি নিয়ে আলোচনার
শুরু থেকেই মুসলিমরা এর তীব্র বিরোধিতা করে আসছেন।
তবে বর্তমানে ক্ষমতাসীন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির হিন্দুত্ববাদী ভারতীয় জনতা পার্টি এরকম একটি আইনের
ভাবনাকে পুনরুজ্জীবিত করে তুলছে।
ভারতের যেসব রাজে বিজেপি ক্ষমতায় আছে - যেমন উত্তর প্রদেশ, হিমাচল প্রদেশ ও মধ্যপ্রদেশ - সেখানে
ইউসিসি নিয়ে আলোচনা করে তাদের স্বার্থ হাসিল করতে চাইছে। সেই ধারাবাহিকতায় উত্তরাখণ্ড ভারতের প্রথম
রাজ্য হতে চলেছে যেখানে ইউনিফর্ম সিভিল কোড বাস্তবায়িত হবে। এমনটাই ঘোষণা করেছে মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর
সিং ধামি।
জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি পরিবার পরিকল্পনার দিকগুলিও অভিন্ন দেওয়ানি বিধিতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
এই একীকরণের কাঠামোটি সংসদে উত্থাপিত ২০১৮-এর পিতামাতা বিলের অনুরূপ পদ্ধতি অনুসরণ করবে
বলে আশা করা হচ্ছে।
এই আইনের মাধ্যমে প্রবর্তিত বিধানগুলি উল্লেখযোগ্যভাবে কঠোর হবে। যে ব্যক্তিরা দুই-সন্তানের নিয়ম লঙ্ঘন
করে তারা তাদের ভোটের অধিকার হরণ করার মতো পরিণতির মুখোমুখি হবে এবং তাদের সরকারি সুযোগ-
সুবিধা বাতিল করা হবে।
মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি সম্প্রতি ঘোষণা করেছে যে দেরাদুনে, "এনলাইটেনমেন্ট কনফারেনে" কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা
মন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের উপস্থিতিতে শীঘ্রই আইনটি বাস্তবায়ন করা হবে। উত্তরাখণ্ডে প্রস্তাবিত ইউনিফর্ম সিভিল
কোডের অধীনে মেয়েদের বিয়ের বয়স বাড়ানো হতে পারে এমন ইঙ্গিত রয়েছে। মুসলিম নারীদের তিন তালাকের
বিধান ও 'ইদ্দত'-এর মতো বিধান নিষিদ্ধ হবে।
উত্তরাখণ্ডের ইউনিফর্ম সিভিল কোডে (0০০0) প্রস্তাবিত সংস্কারগুলি বিভিন্ন ব্যবস্থাকে অন্তর্ভুক্ত করে। এর মধ্যে
রয়েছে রাজ্যের মধ্যে বহুবিবাহ নিষিদ্ধ করা, লিভ-ইন সম্পর্কের ঘোষণা এবং পৈতৃক সম্পত্তির বিষয়ে মেয়েদের
জন্য সমান উত্তরাধিকারের অধিকার নিশ্চিত করা, সমস্ত ব্যক্তির জন্য দত্তক গ্রহণ সক্ষম করা এবং স্বামী ও স্ত্রী
উভয়ের জন্য প্রযোজ্য বিবাহবিচ্ছেদের জন্য সমান ভিত্তি কার্যকর করা।
বিজেপির মূল নির্বাচনী প্রচারের সময় প্রধান অঙ্গীকার ছিল তিনটি। অযোধ্যায় বিতর্কিত ধর্মীয় স্থানটির ওপর
রামমন্দির নির্মাণ, কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল করা, এবং একটি অভিন্ন দেওয়ানি বিধি প্রবর্তন। তো সেই
আল-ফিরদাউস সংবাদ সমগ্র || জুন, ২০২৩ঈসায়ী
মন্দির নির্মাণ এখন চলছে, কাশ্মীরের স্বায়ত্বশাসিত মর্যাদাও বাতিল করা হয়েছে। সুতরাং এখন বাকী রয়েছে
ইউসিসি তথা ইউনিফর্ম সিভিল কোড।
এতে ইউসিসিকে দেখানো হচ্ছে তাদের ভাষায় "পশ্চাৎপদ" মুসলিম ব্যক্তিগত আইনসমুহের একটি প্রতিপক্ষ
হিসেবে।
মুসলিমদের তিন তালাক বা "তাৎক্ষণিক বিবাহবিচ্ছেদের" উদাহরণও টানা হচ্ছে - যা ২০১৯ সালে মি. মোদির
সরকার নিষিদ্ধ করে।
বিজেপির ম্যানিফেস্টোতে বলা হচ্ছে, ভারত যতদিন অভিন্ন দেওয়ানি বিধি প্রবর্তন না করবে ততদিন পর্যন্ত
সেদেশে জেন্ডার সমতা প্রতিষ্ঠিত হবে না।
ভারতের মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ড জানিয়েছেন, ইউনিফর্ম সিভিল কোড প্রণয়নের নামে আইন কমিশন আসলে
বিজেপি সরকারের গোপন এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে চাইছে। বোর্ডের সদস্য হজরত মওলানা ওয়ালি রহমানি
দিল্লিতে সাংবাদিক বৈঠক করে বলেন, "বহু ধর্ম, বু মতের দেশ ভারতে ইউনিফর্ম সিভিল কোড কখনও প্রযোজ্য
হতে পারে না"
বিবাহ, বিবাহ-বিচ্ছেদ, সম্পত্তি বা উত্তরাধিকারের মতো বিষয়গুলো বিভিন্ন ধর্মের 'পার্সোনাল আইনে'র মধ্যে
পড়ে এবং সেখানে আইন কমিশন নাক গলাতে পারে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তাছাড়া, পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে কয়েক হাজার ইমাম এক সমাবেশ করে বলেন, মুসলিম পারিবারিক আইনের বদলে
অভিন্ন দেওয়ানী বিধি তারা কোনমতেই মেনে নেবেন না।
তথ্যসূত্ৰ:
1. People who violate the two children’s rule will not be given the right to vote:
Uttarkhand CM Dhami on Uniform Civil Code - https://tinyurl.com/yhfatyr5
2. The tinderbox of the Uniform Civil Code (UCC) - https://tinyurl.com/b382su3p
পাকিস্তান সেনা কনভয়ে ইস্তেশহাদী অভিযানে অন্তত ৩০ সৈন্য হতাহত
পাকিস্তানের উত্তর ওয়াজিরিস্তানে দেশটির সেনাবাহিনীর গাড়িবহর লক্ষ্য করে ইস্তেশহাদী অপারেশন চালানো
হয়েছে। এতে দেশটির অন্তত ৩০ সৈন্য হতাহত হয়েছে গুল বাহাদুর নামক সশস্ত্র একটি ইসলামি প্রতিরোধ
বাহিনী এই অভিযানের দায় স্বীকার করেছে।
আল-ফিরদাউস সংবাদ সমগ্র || জুন, ২০২৩ঈসায়ী
বিবরণ অনুযায়ী, গত ২১ জুন বুধবার পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখওয়া উপজাতীয় অঞ্চল উত্তর ওয়াজিরিস্তানের
মীর আলী সীমান্তে এই অভিযানের ঘটনা ঘটেছে।
সূত্রমতে, ইস্তেশহাদী অপারেশন পরিচালনাকারী একজন যোদ্ধা শক্তিশালী বিস্ফোরক ভর্তি একটি গাড়ি নিয়ে
প্রথম থেকেই রাস্তার ধারে অপেক্ষা করছিলেন। যখনই পাকিস্তান সেনা কনভয়টি উক্ত স্থান অতিক্রম করতে
থাকে, ঠিক তখনই বিস্ফোরক বোঝাই গাড়িটি সেনা কনভয়কে অনুসরণ করে এর ভিতরে ঢুকে পড়ে। এরপর
পজিশন ঠিক করে গাড়ি বোমাটির বিস্ফোরণ ঘটান এঁ যোদ্ধা। ফলশ্রুতিতে পাকি সেনাবাহিনীর বেশ কয়েকটি
সাঁজোয়া যান এবং গাড়ি ধ্বংস হয়ে যায়। এছাড়াও বিস্ফোরণে সামরিক বাহিনীর অন্তত ৩০ সৈন্য নিহত ও
আহত হয়। পরে তাদেরকে নিকটবর্তী হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়।
মিরানশাহ হাসপাতাল প্রশাসন জানিয়েছে যে, এখন পর্যন্ত ৩০ জন মৃত ও আহত সেনাকে আনা হয়েছে,
আশঙ্কাজনক, যার কারণে তাদেরকে পেশোয়ারে স্থানান্তর করা হচ্ছে।
হাফিজ গুল বাহাদুর গ্রুপ দায় স্বীকার করে বলেছে যে, গাড়ি বোমা বিস্ফোরণে প্রায় ৩০০ কেজি বিস্ফোরক
ব্যবহার করা হয়েছিল, যার ভিডিও ফুটেজ শীঘই প্রচার করা হবে।
উল্লেখ্য যে, টিটিপির পর দেশটিতে সবচাইতে সক্রিয় অবস্থানে আছে হাফিজ গুল বাহাদুর গ্রুপ । দলটি এখন
পর্যন্ত আন্তর্জাতিক কোনো প্রতিরোধ বাহিনীর সাথে নিজেদের সম্পর্কের কথা নিশ্চিত করে নি। তবে পাকিস্তান
গণমাধ্যমগুলি দাবি করে থাকে যে, এই দলটি বৈশ্বিক ইসলামি প্রতিরোধ বাহিনী আল-কায়েদার সাথে সম্পর্ক
রেখে কাজ করছে।
দলটি সম্পর্কে আরও জানা যায় যে, তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তানের সাথে দলটির কিছু বিষয়ে মতানৈক্য
থাকলেও সম্প্রতি উভয় বাহিনীকে কয়েকটি যৌথ সামরিক অভিযানে অংশ নিতে দেখা গেছে, যা দল দুটি থেকে
অফিসিয়ালি নিশ্চিতও করা হয়েছে।
সোমালিয়ায় শাবাবের অভিযানে ১০ দখলদার সহ অন্তত ৭০ সেনা হতাহত
সোমালিয়ায় পশ্চিমা সমর্থিত বাহিনী ও দখলদার উগান্ডান সেনাবাহিনীকে টার্গেট করে সফল অভিযান পরিচালনা
করেছেন আশ-শাবাব যোদ্ধারা। এতে বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা সহ শক্র বাহিনীর অন্তত ৭০ সেনা সদস্য হতাহত
হয়েছে বলে জানা গেছে।
আঞ্চলিক সুত্রে জানা গেছে, হারাকাতুশ শাবাব আল-মুজাহিদিন গত ২০ ও ২১ জুন সোমালিয়া জুড়ে প্রায় ৯টি
সামরিক অপারেশন পরিচালনা করছেন। এই অভিযানগুলিতে তুর্কি প্রশিক্ষিত গরগর ফোর্সের ৫ সেনা এবং
7
আল-ফিরদাউস সংবাদ সমগ্র || জুন, ২০২৩ঈসায়ী
মার্কিন প্রশিক্ষিত দানব ফোর্সের অন্তত ৩০ সৈন্য হতাহত হয়েছে। এছাড়াও দখলদার উগান্ডান সেনাবাহিনীর
অন্তত ৫ সৈন্য নিহত এবং অপর ৫ সৈন্য আহত হয়েছে।
শাহাদাহ এজেন্সির তথ্যমতে, উগান্ডান বাহিনীর বিরুদ্ধে শাবাবের অভিযানটি পরিচালনা করা হয়েছে গত ২০
জুন তারিখে, শাবেলি সুফলা রাজ্যের শালানবুদ শহরে । একটি উগান্ডান সামরিক কনভয়কে লক্ষ্য করে
মুজাহিদগণ ২টি বিস্ফোরক ডিভাইসের বিস্ফোরণ ঘটালে দখলদার বাহিনীর একটি সাঁজোয়া যান ধ্বংস হয়ে
যায়।
এদিন হারাকাতুশ শাবাব যোদ্ধারা দক্ষিণাঞ্লিয় জুবা রাজ্যের কিসমায়ো শহরে মার্কিন প্রশিক্ষিত দানব ফোর্সের
বিরুদ্ধেও একটি সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছেন। এতে সোমালি এই স্পেশাল ফোর্সের অন্তত ১২ সৈন্য নিহত হয়
এবং উচ্চপদস্থ ৪ কর্মকর্তা সহ আরও ১৮ সৈন্য আহত হয়। আহতদের মধ্যে স্পেশাল ফোর্সের ডেপুটি কমান্ডার,
অপারেশনাল কমান্ডার, জুবাল্যান্ড প্রশাসনের কর্নেল আডাম মাও এবং অপারেশন ইউনিটের কমান্ডারও ছিল।
এই অভিযানগুলির একদিন পর অর্থাৎ ২১ জুন তারিখে আশ-শাবাব মুজাহিদিন আরও একটি সফল অভিযান
চালান রাজধানী মোগাদিশুর বারিরি শহরে । সরকারি বাহিনীর একটি সামরিক চেকপয়েন্ট লক্ষ্য করে প্রথমে
বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। পরে মুজাহিদগণ সরকারি বাহিনীকে আ্যামবুশ করে অভিযান বর্ধিত করেন। ফলশ্রুতিতে
চেকপয়েন্টে থাকা ১৭ সেনা সদস্য হতাহত হয় এবং অন্যরা পালিয়ে যায়।
২৪শে জুন, ২০২৩
চলতি বছর ২০২৩ সালের মে মাসে উত্তর-মধ্য মহারাষ্ট্রের আকোলা শহরে মুসলিমদের উপর হিন্দুদের
সাম্প্রদায়িক আক্রমনের ঘটনা ঘটে। হিন্দুরা মুসলিমদের উপর ব্যাপক ভিত্তিতে হামলা চালানোর পরেও পুলিশ
১৫০ জনের বেশি মুসলিমকে আটক করে।
আটককৃত মুসলিমদের বিরুদ্ধে কোন অপরাধ প্রমাণিত না হওয়ায় তারা জামিন পেতে পারেন। কিন্তু ম্যাজিস্ট্রেট
আদালত থেকে জামিন পাওয়ার পরে আকোলা সিটি পুলিশ জামিনদার হিসাবে হিন্দু সম্প্রদায়ের কোন ব্যক্তি
গ্যারান্টার হওয়ার শর্ত জুড়ে দিয়েছে। অথচ এটি ভারতীয় সংবিধান ও আদালতেরও নির্দেশের সাথে সরাসরি
সাংঘর্ষিক।
আকোলায় মুসলিমদের ক্ষেত্রে পুলিশ প্রশাসনে এটি একটি সাধারণ নিয়মে পরিণত করছে।
7
আল-ফিরদাউস সংবাদ সমগ্র || জুন, ২০২৩ঈসায়ী
মানবাধিকার সংস্থা আ্যাসোসিয়েশন ফর প্রোটেকশন অফ সিভিল রাইটস (এপিসিআর) এর সাথে যুক্ত একজন
আইনজীবী এম. বদর মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া অনেকের প্রতিনিধিত্ব করছেন। তিনি দ্য ওয়্যারকে বলেছেন যে,
মুসলিমদের ম্যাজিস্ট্রেট আদালত জামিন দেওয়ার সাথে সাথে তাদের সবাইকে স্থানীয় অপরাধ শাখার সামনে
সারিবদ্ধ করা হয়। “অভিযুক্তদের প্রত্যেককে তখন বলা হয় যে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকদেরকে পুলিশের সামনে
তাদের জামিন হিসাবে জামিন দেওয়ার জন্য"
এছাড়া এই জামিনের জন্য মুসলিমদের ৫,০০০ থেকে ৬,০০০ রুপির মত কিছু খরচ করতে হবে, যা বেশিরভাগ
অভিযুক্ত ব্যক্তি বহন করতে অক্ষম ।
আইনজীবী এম. বদর উল্লেখ করেছেন, টাকার বিষয়টি যেমনি হোক বা না হোক কিন্তু একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের
লোকেদের জামিনের গ্যারান্টার হিসেবে হাজির করতে বলার এই দাবিটি সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। হাইকোর্টের আদেশে
ইতিমধ্যেই এই ধরনের পুলিশি পদক্ষেপকে অসাংবিধানিক এবং বেআইনি বলে অভিহিত করেছে। তারপরেও
শুধু মুসলিমদের হয়রানি করার জন্য এমন অযৌক্তিক কাজ হচ্ছে। আর হিন্দুরা মুসলিমদের জামিন দিতে চাইবে
না এটাই স্বাভাবিক।
আদালতের আদেশও ভারতের পুলিশেরা অমান্য করে চলেছে হরহামেশাই । আর মুসলিমদেরকে একের পর এক
হয়রানি করেই যাচ্ছে।
তথ্যসূত্র:
1. Akola Police Ask Muslim Men Accused of Rioting To Furnish Hindu Guarantors
- https://tinyurl.com/ynm2hfcy
২৩শে জুন, ২০২৩
সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষায় অংশ নেয়। পরে তাদেরকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য বোরকা খুলে ফেলতে বাধ্য করে
কলেজ ম্যানেজমেন্ট।
্
আল-ফিরদাউস সংবাদ সমগ্র || জুন, ২০২৩ঈসায়ী
কলেজের প্রবেশপথে নিয়োজিত নিরাপত্তা কর্মীরা বোরকা পরিহিত পরীক্ষার্থীদের প্রবেশ করতে দিতে অস্বীকৃতি
জানায়। যদিও শিক্ষার্থীদের কেউই প্রাথমিকভাবে এটা করতে সম্মত ছিলেন না, তবুও বাধার মুখে অনেকে
বোরকা খুলে ফেলতে বাধ্য হয়। আর অভিভাবকরাও এর বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করতে থাকেন।
এমনকি কিছু ছাত্রী গায়রে মাহরাম পুরুষের সামনে বোরখা না খুলে তাদেরকে আলাদা জায়গায় বোরকা খুলে
দেওয়ার ব্যবস্থা করে দিতে কলেজ কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানায়। কিন্তু তাদের সেই অনুরোধও অগ্রাহ্য করা হয়।
বাধ্য করা হয়। আমাদের অনুরোধ সত্তেও কলেজ ম্যানেজমেন্ট বোরকা ভালোভাবে খোলার জন্য কিছু সময়
দেওয়ার আবেদনও বিবেচনা করেনি।
অভিভাবকরা জানিয়েছেন, "শুধু হিজাবের কারণেও ছাত্রীদেরকে টার্গেট করা হয়েছে । আর কলেজ ম্যানেজমেন্ট
অভিভাবকদের অনুরোধ শুনেনি। তার পরিবর্তে প্রবেশদ্বারে উশৃংখল নিরাপত্তা কর্মী লেলিয়ে দেয়।"
তেলেঙ্গানার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অবশ্য বলেছেন- তেলেঙ্গানায় যার যে পোশাক পড়তে ইচ্ছা সে সেটা পড়তে পারে।
পরীক্ষায় যারা বোরকা খুলতে বাধ্য করেছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
https://twitter.com/ANI/status/1669920760402690049?ref_src=twsrc%5Etfw%7Ctwcamp%
5Ftweetembed%7Ctwterm%5E1669920900077207552%7Ctwgr%5Ec6014b153a2be346664df9e
31905b01ccd5c0b00%7Ctwcon%5Es2_&ref_url=https%3A%2F%2Fwww.siasat.com%2Fhydera
bad-girl-students-protest-on-being-asked-to-remove-burqa-before-exam-2617108%2F
তথ্যসূত্ৰ:
1. Hyderabad: Students protest on being asked to remove burqa before exam
- https://tinyurl.com/5f823d)j
ফিলিস্তিন || জেনিনে ইসরায়েলি আগ্রাসানে ৫ জন নিহত, ৯১ জন আহত
অধিকৃত পশ্চিম তীরের উত্তরে জেনিন শহরে বিপুল সংখ্যক ইসরায়েলি সেনারা সামরিক আগ্রাসন চালিয়েছে।
গত ১৯ জুন সোমবারের এ হামলায় এতে এক শিশুসহ ৫ ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন বলে জানা গেছে।
আল-ফিরদাউস সংবাদ সমগ্র || জুন, ২০২৩ঈসায়ী
স্থানীয় সুত্র জানিয়েছে যে, গত ১৯ জুন সোমবার সকালে জেনিন ক্যাম্পে শুরু হওয়া ইহুদি সেনাদের হামলা
পরদিন ২০ জুনেও অব্যাহত ছিল। জেনিন অভিযানে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টারও অংশ নিয়েছে বলে
জানা গেছে।
ইহুদি সেনারা জেনিন শরণার্থী শিবিরে ফজরের সময় ব্যাপক আক্রমণ শুরু করে এবং প্রচুর গুলিবর্ষণ করে
ফিলিস্তিনি মুসলিমদের মাঝে আতংক ছড়িয়ে দেয়। এ সময় কয়েকজন ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী যোদ্ধাকে তুলে
নেয়ার জন্য চেষ্ঠা চালায় তারা৷ কিন্তু ফিলিস্তিনিরা এ সময় পাথর নিক্ষেপ করে ও প্রতিরোধ গড়ে তুলে। এক
পর্যায়ে তা সংঘাতে রুপ নেয়। ইসরাইলি বাহিনী এ সময় হেলিকপ্টার থেকে গুলি শুরু করে।
https://twitter.com/Timesofgaza/status/1670679416748294144
ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, জেনিনে ইসরায়েলি সেনাদের গুলিতে এক শিশুসহ ৫
জন ফিলিস্তিনি মুসলিম নিহত হয়েছেন। এছাড়াও ইসরায়েলি আগ্রাসনের সময় লাইভ বুলেটের আঘাতে আহত
হয়েছেন আরও ৯১ জন, যার মধ্যে কয়েকজনের আঘাত গুরুতর ।
ফিলিস্তিনি ওয়াফা নিউজ এজেন্সি আবু রুদেনাহকে উদ্ধৃত করে বলেছে যে, বর্তমান এই পরিস্থিতি চলতে পারে
না। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ইসরায়েলি এই উন্মাদনা বন্ধ করতে অবিলম্বে হস্তক্ষেপ করতে হবে। শুধু নিন্দা
বিবৃতি আর আন্তর্জাতিক নীরবতা দখলদার সরকারকে তার অপরাধ চালিয়ে যেতে এবং আমাদের ফিলিস্তিনি
জনগণকে তাদের ভূমি এবং তাদের পবিত্রতার বিরুদ্ধে সর্বাত্মক যুদ্ধ পরিচালনা করতে উৎসাহিত করে।
অন্যদিকে, ইসরায়েলি এই বর্বরতার বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলি বিস্ফোরক ডিভাইস দিয়ে ইসরায়েলি
সেনাবাহিনীর একটি গাড়ি ধ্বংস করেছে বলেও জানা গেছে। এতে দখলদার ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর ৬
সেনা আহত হয়েছে। ৯ হামলার পরপরই হামলাকারী ইসরাইলি সেনারা সাময়িকভাবে পিছু হটে। এর পরেই হেলিকপ্টার থেকে
বেসামরিক মুসলিমদের উপর নির্বিচারে হামলা শুরু করে তারা।
ফিলিপাইনে মসজিদে সামরিক অভিযান, নিহত ৭ মুসলিম
বিশ্বজুড়েই মুসলিমরা নিপীড়ন ও বৈষম্যের শিকার হচ্ছে, যার থেকে ব্যতিক্রম নয় ফিলিপাইনের মুসলিমরাও।
গত কয়েক দশক ধরেই সেখানকার সংখ্যাগরিষ্ঠ খ্রিস্টানদের দ্বারা জুলুমের শিকার হচ্ছেন মুসলিমরা । এরই
ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি মিন্দানাওয়ের একটি মসজিদে সামরিক অভিযান চালিয়েছে দেশটির সামরিক বাহিনী।
মসজিদে আক্রমণ চালিয়ে তারা নৃশংসভাবে খুন করে ৭ জন মুসলিমকে । নিহত মুসলিমরা স্বাধীনতাকামী মোরো
ইসলামিক লিবারেশন ফ্রন্ট (এমআইএলএফ) এর সদস্য বলে জানা গিয়েছে।
আল-ফিরদাউস সংবাদ সমগ্র || জুন, ২০২৩ঈসায়ী
গত ১৮ জুন এ ঘটনা ঘটে। 004৮৬ (ডকুমেন্টিং অপারেশন এগেইনস্ট মুসলিম) এর বরাতে জানা যায়,
ফিলিপাইন ন্যাশনাল পুলিশ ও সামরিক বাহিনীর অধীনে দেশটির গোয়েন্দা বাহিনীর একটি দল মসজিদে অভিযান
চালায়। এ সময় কোন প্রকার আইনি পদক্ষেপ না নিয়ে নৃশংসভাবে মুসলিমদের খুন করে সেনাবাহিনী ।
ফিলিপাইন দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একটি দ্বীপ রাষ্ট্র। ৭ হাজার ১০৭টি দ্বীপের সমন্বয়ে গঠিত দেশটি । মিন্দানাও
দেশটির দ্বিতীয় বৃহত্তম দ্বীপপুঞ্জ । এর আয়তন ৯৭ হাজার ৫০০ বর্গ কিলোমিটার। জনসংখ্যা দুই কোটি ৫৫ লাখ
৩৭ হাজার । এই জনসংখ্যার ৯৮ শতাংশই মুসলমান। স্পেন ও আমেরিকার দখলদারিত্ব থেকে দেশটি মুক্ত হবার
পর মিন্দানাও ছ্বীপপুঞ্জকে ফিলিপাইনের সাথে যুক্ত করে দেওয়া হয়। এর ফলে মুসলিমরা দেশটির মোট
জনসংখ্যার ১১ শতাংশে নেমে যায়, এবং দেশটির সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ে পরিণত হয়। সেই সময় থেকেই দেশটিতে
মুসলিমরা রাষ্ট্রীয় জুলুমের শিকার হতে থাকে । যার ফলে ফিলিপাইনের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন হলেও
মিন্দানাওয়ের বাসিন্দারা দারিদ্রতায় জর্জরিতই থেকে যায়।
ফিলিপাইন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার শুরু থেকেই মিন্দানাওয়ের মুসলিমরা ফিলিপাইনের সাথে একত্রিত হওয়ার বিরোধীতা
করেছিল। তা সত্ত্বেও ফিলিপাইন সরকার জবরদখলের মাধ্যমে মিন্দানাও দ্বীপপুঞ্জে ক্ষমতা আকড়ে ধরে রাখে।
ভারত অধিকৃত কাশ্মীরের মতো সেখানেও দমন-পীড়ন শুরু করে। এরপর থেকে স্থানীয় মুসলিমরা নিজেদেরকে
দখলদার মুক্ত করতে ও স্বাধীন মুসলিম রাষ্ট্র কায়েমের দাবিতে দীর্ঘ অর্ধ শতাব্দী ধরে সশস্ত্র লড়াই চালিয়ে
আসছে।
মুসলিমরা দীর্ঘ দিন ধরে স্বাধীনতার জন্য লড়াই চালিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত মুসলিমদের পক্ষে কেউ দাঁড়ায়নি।
অথচ তাদের প্রতিবেশি খ্রিস্টান রাষ্ট্র পূর্ব-তিমুর, যারা নিজেদের আলাদা খ্রিস্টান রাষ্ট্রের জন্য মাত্র ১৫ বছরেরও
কম সময় কাজ করেছে বা বিদ্রোহ করেছে, আর এতেই জাতিসংঘ পূর্ব তিমরকে মুসলিম রাষ্ট্র ইন্দোনেশিয়া
থেকে আলাদা রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়, এবং স্বাধীন খ্রিস্টান রাষ্ট্র ঘোষণা করে।
1. MASSACRE: Extrajudicial Killing of Seven Moro Muslims in a Mosque in Southern
Philippines - https://tinyurlL.com/erbf6r9e
2. ফিলিপাইনের ইতিহাস - https://tinyurl.com/5aet5sxmh
3. পূর্ব তিমুর - https://tinyurl.com/4cf2ckeb
মালি থেকে জাতিসংঘের সামরিক মিশন প্রত্যাহার চায় দেশটির জান্তা সরকার
জি
আল-ফিরদাউস সংবাদ সমগ্র || জুন, ২০২৩ঈসায়ী
পশ্চিম আফ্রিকার দেশ মালি থেকে শরিয়াহ্ শাসনের বিলুপ্তি ঘটাতে ২০১৩ সালে দেশটিতে সামরিক আগ্রাসন
শুরু করেছিল পশ্চিমা ও ইউরোপীয় সামরিক জোটগুলো। সেই ধারাবাহিকতায় জাতিসংঘও তখন এই দেশটিতে
তার সামরিক মিশন শুরু করে। ফলে দীর্ঘ এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের সম্মুখীন হয় মালির মুসলিমরা ৷
যুদ্ধের প্রাথমিক পর্যায়ে পশ্চিমা সম্মিলিত জোটবাহিনী সাময়িক সময়ের জন্য ইসলামি প্রতিরোধ যোদ্ধাদের দুর্বল
করে দিতে পারলেও, দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধে তাদের সকল কলাকৌশল ব্যর্থ হতে থাকে । আর আল-কায়েদা সংশ্লিষ্ট
ইসলামি প্রতিরোধ যোদ্ধারাও (জেএনআইএম) দিনে দিনে আরও বেশি শক্তিশালী ও সুসংগঠিত হয়ে বিস্তীর্ণ
অঞ্চলের উপর নিজেদের অবস্থান দৃঢ় করতে থাকেন।
এমন পরিস্থিতিতে পশ্চিমা সমর্থিত জোটগুলো থেকে আস্থা হারিয়ে ফেলেছে মালির জান্তা প্রশাসন। পরাজিত
ব্যর্থ পশ্চিমা ও ইউরোপীয় জোটগুলোও তখন ধীরে ধীরে দেশটি ছাড়তে বাধ্য হয়।
সর্বশেষ জাতিসংঘের প্রতিও অনাস্থা তৈরি হয়েছে দেশটির সামরিক জান্তা সরকারের । যেকারণে মালির সামরিক
জান্তা প্রশাসন গত শুক্রবার জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে অবিলম্বে দেশটি থেকে জাতিসংঘের সামরিক
মিশন প্রত্যাহার দাবি জানিয়েছে। যদিও জান্তার এই পদক্ষেপ পশ্চিমাদের সাথে তাদের সম্পর্কের টানাপোড়েন
আরও বাড়াবে বলে মনে হচ্ছে।
জাতিসংঘ মালি মাল্টিডাইমেনশনাল ইন্টিগ্রেটেড স্টেবিলাইজেশন মিশন (INUSMA) এবং জান্তার মধ্যে
"বিশ্বাসের সংকট" এর প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে জান্তা কর্মকর্তারা দাবি করেছে যে, সামরিক মিশন বিলম্ব না
করে তাদেরকে দেশ ছেড়ে চলে যেতে হবে।
জান্তার সরকারের পররাষ্ট্র বিষয়ক মন্ত্রী আবদৌলায়ে ডিওপ সামরিক মিশন প্রত্যাহার বিষয়ে বলেন, "শান্তিরক্ষার
জন্য এখানে জাতিসংঘের মিশন শুরু হলেও বিগত ১০ বছরেও তা প্রতিষ্ঠা করতে ব্যর্থ হয়েছে জাতিসংঘ ।
দুর্ভাগ্যবশত এখানে MINUSMA-এর অবস্থানের ফলে স্থানীয় সম্প্রদায়গুলির মধ্যে উত্তেজনা তৈরি করছে। সেই
সাথে আগের যেকোনো সময়ের চাইতে সহিংসতাও বেড়েছে।
মালির জান্তা প্রশাসন জোর দিয়ে বলেছে যে, ফ্রাস এবং পশ্চিমা দেশগুলির যুদ্ধ ও কৌশল জিহাদি গোষ্ঠীগুলির
বিরুদ্ধে লড়াইয়ে যথেষ্ট ছিলো না। তারা এখানে তাদের কাজে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। বিপরীতে এই দেশগুলির
উপস্থিতি এখানে উত্তেজনা বাড়িয়েছে। মালিয়ান জনগণের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি করেছে, ফলে দেশের বিভিন্ন
স্থানে জাতিসংঘের অবস্থানের বিরুদ্ধেও সম্প্রতি বিক্ষোভ করছেন জনগণ।
মালিয়ান কর্তৃপক্ষ এবং ॥INUSMA-এর মধ্যে আস্থার সংকট সৃষ্টি হয়েছে বলেও জোর দিয়ে ডিওপ বলেন,
"এসব কারণে মালি সরকার চায় ॥INUSMA কে বিলম্ব না করে এখান থেকে প্রত্যাহার করা হোক ৷"
তবে জেএনআইএমের চতুর্মুখি চাপে এবং মুজাহিদদের সাথে আলোচনা শুরু করার তাগিদে অনেকটা বাধ্য হয়েই
জান্তা সরকার এই সিদ্ধান্তে উপনিত হয়েছে বলে বিভিন্ন নিরপেক্ষ মাধ্যমের বিশ্লেষণে অনুমান করা যাচ্ছে।
7
আল-ফিরদাউস সংবাদ সমগ্র || জুন, ২০২৩ঈসায়ী
এসময় জাতিসংঘে ফরাসী রাষ্ট্রদূত নিকোলাস ডি রিভিয়ের বলেছেন যে, মিনুসমা এবং মালিয়ান কর্তৃপক্ষের মধ্যে
সংলাপ সত্তেও, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষীরা এখনও চলাচলের বিধিনিষেধের অধীন। ডি রিভিয়েরে জোর দিয়ে বলেন
যে, ওয়াগনার মালিতে আসার পর থেকে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষীদের চলাচলে নিষেধাজ্ঞা, মানবাধিকার এবং
আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন গুরুতরভাবে বেড়েছে।
জান্তার বিবৃতি সম্পর্কে জাতিসংঘের আর্থিক দূত এবং মালি মিশনের প্রধান এল গাসিম ভেন বলেছেন যে, এটি
পরিষ্কার যে শান্তিরক্ষা মিশনগুলি আয়োজক দেশের সম্মতির ভিত্তিতে পরিচালিত হয়। এটি অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং
এবং অসম্ভব, যদি সে দেশের সম্মতি না থাকে।
উল্লেখ্য যে, বর্তমানে মালিতে আল-কায়েদা সংশ্লিষ্ট ইসলামি প্রতিরোধ যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে
জাতিসংঘের অধীনে বিভিন্ন দেশের ১৫ হাজারেরও বেশি সৈন্য রয়েছে। এদের মধ্যে প্রায় দেড় হাজার বাংলাদেশী
সৈন্যও রয়েছে।
বুরকিনান সেনা ব্যারাকে আল-কায়েদার অভিযানে অন্তত ১২৩ সেনা নিহত
মালি সংলগ্ন পশ্চিম আফ্রিকার দেশ বুরকিনা ফাসোতে কয়েক বছর ধরেই আল-কায়েদা ও সরকারি বাহিনীগুলোর
মাঝে যুদ্ধ চলমান। আর স্থানীয় সুত্র মারফত জানা যায় যে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বুরকিনান সেনা
ব্যারাকগুলোতেই আল-কায়েদা যোদ্ধাদের অভিযান পরিচালিত হচ্ছে বেশি। গত কিছুদিনেও দেশটিতে আল-
কায়েদা যোদ্ধাদের এধরণের অভিযানে অন্তত ১২৩ বুরকিনান সেনা নিহত হয়েছে, আহত হয়েছে আরও অগণিত।
প্রতিরোধ বাহিনী আল-কায়েদার পশ্চিম আফ্রিকান শাখা সংশ্লিষ্ট জামা'আত নুসরাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমিন
(জেএনআইএম) গত ২৭ মে থেকে ১৭ জুন পর্যন্ত সময়ের মাঝে বুরকিনান সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে অন্তত ২৪ টি
সামরিক অভিযান পরিচালনা করছে, যাতে অসংখ্য বুরকিনান সেনা হতাহত হয়েছে। তবে দলটির অফিসিয়াল
মিডিয়া আয-যাল্লাকা ফাউন্ডেশন এসময়ের মধ্যে মোট ৯টি পৃথক বার্তা প্রকাশ করে কেবলমাত্র ১৪টি অভিযানের
তথ্য নিশ্চিত করেছে।
তাদের অফিসিয়াল তথ্য অনুযায়ী, উক্ত ১৪ টি অভিযানেই বুরকিনান সেনাবাহিনীর কমপক্ষে ১২৩ সৈন্য নিহত
হয়েছে। পাশাপাশি অভিযানগুলোতে আরও অনেক সৈন্য আহত হয়েছে, যাদের সঠিক সংখ্যা জানা সম্ভব হয়
নি।
এই অভিযানগুলির সময় জেএনআইএমের ইসলামি প্রতিরোধ যোদ্ধারা সেনাবাহিনীর ৭টি গাড়ি ও ২টি অস্থায়ী
সামরিক ঘাঁটিও পুড়িয়ে দিয়েছেন।
ও
আল-ফিরদাউস সংবাদ সমগ্র || জুন, ২০২৩ঈসায়ী
মুজাহিদগণ এরমধ্যে তাদের সবচাইতে সফল অভিযানটি পরিচালনা করছেন গত ২৭ মে শনিবার। দেদুগৌ
রাজ্যের নোনার এলাকায় বুর্কিনান সেনাদের একটি কনভয় লক্ষ্য করে চালানো এ অভিযানে ঘটনাস্থলেই
বুরকিনান সেনাবাহিনীর অন্তত ৩২ সৈন্য নিহত হয়, বাকিরা আহত অবস্থায় জীবন নিয়ে পালিয়ে যায়।
ইসলামি প্রতিরোধ যোদ্ধারা এধরণের আরও একটি সফল অভিযান পরিচালনা করছেন গত ৯ জুন বৃহস্পতিবার,
দেশটির ক্রিয়া রাজ্যের ক্রম শহরে সেনাবাহিনীর একটি সদর দফতর লক্ষ্য করে। এই অভিযানের ফলে
সেনাবাহিনীর অনেক সৈন্য নিহত এবং আহত হয়, যাদের মধ্যে ২০ জনের মৃতদেহ সদর দফতরে ফেলে রেখেই
বাকি সৈন্যরা পালিয়ে যায়।
বিদেশি মদদপুষ্ট সামরিক বাহিনীর বিপুল ক্ষয়ক্ষতি ঘটানোর পাশাপাশি, ইসলামি প্রতিরোধ যোদ্ধারা সামরিক
ব্যারাক, সদর দফতর ও কনভয় থেকে উদ্ধার করেছেন ৮টি সাঁজোয়া যান ও গাড়ি, ১৩টি ট্রাক, খাদ্য ও সামরিক
সরঞ্জাম ভর্তি ১টি ট্রাক, ১টি ড্রোন, ৪টি পিকা, ৯১টি ক্লাশিনকোভ, ১২৭টি মোটরসাইকেল, ৩৮টি মোবাইল, ৫টি
পিস্তল, ১১৮টি গোলাবারুদ ভর্তি বাক্স সহ আরও অন্যান্য প্রচুর জিনিসপত্র ও সামরিক সরঞ্জাম ।
২১শে জুন, ২০২৩
ইসলাম বিদ্বেষী মন্তব্য ও হয়রানির কারণে আাপল থেকে পদত্যাগ
ভারতে আ্যাপল কোম্পানির বেঙ্গালুরু শাখা থেকে জনাব খালিদ পারভেজ নামের একজন চাকুরিজীবী পদত্যাগ
করেছেন। পদত্যাগের কারণ হিসেবে জনাব পারভেজ মানসিক হয়রানির শিকার হওয়া, তার প্রতি সহকর্মীদের
অশালীন ভাষার ব্যবহার, সমস্যা সমাধানে কোম্পানি ব্যবস্থাপনার অনাগ্রহ ও পক্ষপাতিত্ব এবং ইসলামফোবিক
মন্তব্যের কথা উল্লেখ করেছেন।
সম্প্রতি নিজের একটি লিংকড-ইন পোস্টে জনাব পারভেজ কোম্পানির মানবসম্পদ বিভাগ থেকে "সহানুভূতি
প্রকাশের অভাব" রয়েছে বলে সমালোচনা করেছেন। তবে তিনি আযাপলে নিজের উন্নয়নের জন্য যে সুযোগ
পেয়েছেন, তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে ভুলেননি। পারভেজ উল্লেখ করেছেন যে, তার প্রতি সহকর্মীদের
ইসলামবিদ্বেষী মন্তব্য ও হয়রানি সংক্রান্ত অভিযোগ দায়েরের পর ম্যানেজমেন্টের তদন্তের সময় তাকে বারবার
সিস্টেমের উপর আস্থা রাখতে বলা হয়েছিল। তবে তিনি তখনই দেখতে পেয়েছেন যে, সমস্যা সমাধানে তারা
পর্যাপ্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করে নি।
অবশেষে দুই মাসের তথাকথিত 'পুঙ্খানুপুঙ্খ' তদন্তের পরে ম্যানেজমেন্ট তার অভিযোগগুলো অস্বীকার ও পাল্টা
অভিযোগ ছাড়া আর কিছুই করেনি । এমনকি জনাব পারভেজের মানসিক স্বাস্থ্য এবং পারিবারিক সমস্যাগুলি
নিয়ে উপহাসও করা হয়েছে।
আল-ফিরদাউস সংবাদ সমগ্র || জুন, ২০২৩ঈসায়ী
পারভেজ অভিযোগ করেছেন যে, তার মানসিক স্বাস্থ্যের উদ্বেগগুলিকে ম্যানেজমেন্টের পক্ষ থেকে গুরুত্ব সহকারে
নেওয়া হয়নি, বরং উপহাস করা হয়েছিল। তিনি আরও অভিযোগ করেছেন যে, সংস্থাটি তার অভিযোগগুলি
পুভ্খানুপুভ্খভাবে তদন্ত করার পরিবর্তে তার উত্থাপিত বিষয়গুলি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে।
তিনি লিংকড-ইন-এ লিখেছেন, “যখন আমি ইসলামোফোবিক মন্তব্য সম্পর্কে তাদেরকে জিজ্ঞাসা করি, তখন
ই.আর. বলেছিল যে আমার কোনো অভিযোগমূলক বিবৃতি বা ঘটনা অন্য কর্মচারীদের দ্বারা প্রমাণিত হয়নি।
তখনই আমি বুঝতে পেরেছিলাম যে কোনও তদন্ত হয়নি, বরং এটি ছিল কিছু বড় কর্পোরেট কাভার আপ তথা
লোক দেখানো তদন্ত ৷"
তিনি তার পোস্টে আরো লিখেছেন, “আমি কেন পদত্যাগ করেছি- তার একমাত্র কারণ হল আমার আ্যাপল
সহকর্মী এবং আমার সমস্ত সহকর্মী কর্পোরেট ভিকটিমদের কাছে আমি একটি বার্তা পৌঁছে চিতে চাই । আর তা
হল- অনুগ্রহ করে প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করতে ভয় পাবেন না। যখনই আপনি বৈষম্য, অসদাচরণ কিংবা কোনো ধরনের
দুর্ব্যবহার বা গুন্ডামি দেখবেন, তখন অনুগ্রহ করে আপনার আওয়াজ তুলুন। আমার মতো সিস্টেমটিকে অন্ধভাবে
বিশ্বাস করবেন না (অন্তত স্থানীয় সিস্টেমকে বিশ্বাস করবেন না)। দয়া করে রুখে দাড়ান, এবং দয়া করে
প্রতিটি বিষয় প্রমাণসহ সংগ্রহ করুন ।"
ভারতে ইসলামবিদ্বেষ কতটা গভীরে শেকড় গেড়েছে, জনাব পারভেজের এই ঘটনা তার একটি উল্লেখযোগ্য
প্রমাণ । আযাপলের মতো বহুজাতিক কোম্পানিতে কাজ করেও তিনি ইসলামবিদ্বেষী আচরণ ও উপহাস থেকে
বাঁচতে পারেন নি। ভারতের বাস্তব পরিস্থিতি মুসলিমদের জন্য কতটা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে- তা এই ঘটনার
মাধ্যমে আরো স্পষ্ট হয়েছে।
তথ্যসূত্ৰ:
1. Bengaluru Muslim employee resigns from Apple, citing Islamophobia and harassment
-https://tinyurlL.com/bdcnr9w4
কেনিয়ায় শাবাবের জোড়ালো অভিযানে ৪৩ সেনা নিহত
সোমালিয়া সংলগ্ন পূর্ব আফ্রিকার দেশ কেনিয়ায় চলতি জুন মাস থেকে সামরিক অপারেশনের পরিসর আগের
তুলনায় বাড়িয়েছেন হারাকাতুশ শাবাব আল মুজাহিদিন। আল-কায়েদা পূর্ব আফ্রিকান শাখা হিসেবে পরিচিত এই
ইসলামি প্রতিরোধ বাহিনীটির ২টি পৃথক অভিযানে কেনিয়ান সামরিক বাহিনীর অন্তত ৩৫ সৈন্য নিহত হয়েছে
বলে জানা গেছে।
আল-আন্দালুস রেডিওর তথ্যমতে, হারাকাতুশ শাবাব মুজাহিদিন গত ১৮ জুন রবিবার কেনিয়ার সামরিক বাহিনী
দ্বারা পরিচালিত টো টাইপের একটি সাঁজোয়া যান লক্ষ্য করে ভারী বিস্ফোরণ ঘটিয়েছেন। এতে কেনিয়ার ২৫
জিও
আল-ফিরদাউস সংবাদ সমগ্র || জুন, ২০২৩ঈসায়ী
সৈন্য নিহত এবং আরও ৩ সৈন্য আহত হয়েছে। বিস্ফোরণের সময় সেনাদলটি পান্ডাঙ্গুও এলাকা থেকে বেরিয়ে
লামু অঞ্চলের উইটু এলাকার দিকে যাচ্ছিল। তখন এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটলে ২টি সাঁজোয়া যান ধ্বংস হয়
এবং হতাহতের এই ঘটনা ঘটে।
এদিন আশ-শাবাবের হামলার শিকার কেনিয়ার এই দলটিকে উদ্ধারের জন্য আসা কেনিয়ার সৈন্যদেরও লক্ষ্যবস্তু
করে আশ-শাবাব। এখানে আরও কিছু কেনিয়ান সৈন্য হতাহতের শিকার হয় এবং মুজাহিদগণ তাদের কোয়ালকা
ধরনের ১টি গাড়ি ধ্বংস করে দেন।
এই অভিযানের একদিন আগেই লামু রাজ্যের মাররানি শহরের কাছে কেনিয়ার একটি সামরিক কনভয় টার্গেট
করে আাম্বুশ করেন হারাকাতুশ শাবাবের প্রতিরোধ যোদ্ধারা। এসময় শাবাবের বোমা বিস্ফোরণ এবং অতর্কিত
হামলায় কেনিয়ান বাহিনীর একটি সাঁজোয়া যান ধ্বংস হয়ে যায়, সেই সাথে দেশটির অন্তত ১০ সৈন্য নিহত
এবং অন্য ৫ সৈন্য আহত হয়।
সোমালিয়াতে নিজেদের অবস্থান মজবুত করার পর আশ-শাবাব এবার পার্শ্ববর্তী কেনিয়ান জনগণকে শারয়ী
শাসনের প্রশান্তি আস্বাদন করানোর দিকে মনোযোগ নিবদ্ধ করেছেন বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে।
আল-ফিরদাউস নিউজ বুলেটিন || জুন ৩য় সপ্তাহ, ২০২৩ঈসায়ী ||
https://alfirdaws.org/2023/06/21/63511/
এক মাসে আল-কায়েদার অভিযানে ৬৩ বুরকিনান সেনা নিহত
মালি সংলগ্ন পশ্চিম আফ্রিকার দেশ বুরকিনা ফাসোতে আল-কায়েদা সংশ্লিষ্ট জেএনআইএম সাম্প্রতিক
বলে জানিয়েছে আঞ্চলিক সংবাদ মাধ্যম আয-যাল্লাকা। সম্প্রতি দেশটিতে জেএনআইএম প্রতিরোধ যোদ্ধাদের
পৃথক অভিযানে অন্তত ৬৩ বুরকিনান সেনা সদস্য নিহত হয়েছে বলে জানা গেছে।
ধারাবাহিক অভিযান বৃদ্ধির অংশ হিসেবে, দলটির প্রতিরোধ যোদ্ধারা গত ১৮ এপ্রিল থেকে ১৮ মে পর্যন্ত দেশটির
জান্তা প্রশাসনের বিরুদ্ধে অন্তত ২৩ টি সামরিক অপারেশন পরিচালনা করেছেন।
- গত ১৮ এপ্রিল দেশটির বেতু অঞ্চলের জিকাজি শহরে অবস্থিত বুরকিনান সরকারি মিলিশিয়াদের সদর
দফতরে অভিযান চালান জামাত নুসরাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমিনের প্রতিরোধ যোদ্ধারা। এই অভিযানে
মিলিশিয়া বাহিনীর অন্তত ২০ সেনা নিহত হয় এবং বাকিরা পালিয়ে যায়। অভিযান শেষে সদর দফতরটি থেকে
১,৩৭৫,০০০ ফরাসি ডলার উদ্ধার করেন জেএনআইএম যোদ্ধারা ।
0)
আল-ফিরদাউস সংবাদ সমগ্র || জুন, ২০২৩ঈসায়ী
- ২৭ এপ্রিল বৃহস্পতিবার জেএনআইএম' যোদ্ধারা দেশটির ওগারো অঞ্চলের ফাদা-মাসাকোলি এলাকায় জান্তা
প্রশাসনের একটি সামরিক ব্যারাক ঘিরে তীব্র অভিযান পরিচালনা করেন। এসময় যুদ্ধক্ষেত্রেই ২১ বুরকিনান
সেনা নিহত হয় এবং বাকিরা সামরিক ব্যারাক ছেড়ে পালিয়ে যায়।
- ৩ মে বুধবার, 'জেএনআইএম' যোদ্ধারা ফাদা অঞ্চলের ইয়াম্থা এলাকায় আরও একটি সামরিক অভিযান
পরিচালনা করেন। অভিযানটি জান্তা বাহিনীর একটি সামরিক ইউনিটকে টার্গেট করে চালানো হয়েছিল। এতে
বুরকিনার জান্তা বাহিনীর অন্তত ৭ সৈন্য নিহত এবং আরও অনেক সৈন্য আহত হয়েছে।
- এরপর গত ১২ মে দুপুরে ইসলামি প্রতিরোধ যোদ্ধারা ফাবুরি অঞ্চলের কেয়া এলাকায় আরও একটি অভিযান
পরিচালনা করেন, যেটি বুরকিনান সেনাবাহিনীর একটি টহলরত দলকে টার্গেট করে চালানো হয়েছিল। আর
তাতে ৫ বুরকিনান সৈন্য নিহত হয়।
-১৮ মে বৃহস্পতিবার সকালে 'জেএনআইএম' মুজাহিদিন ওয়াহিগোয়া অঞ্চলের নুঙ্গাফিরি এলাকায় আরও একটি
অভিযান পরিচালনা করেন। প্রতিরোধ যোদ্ধাদের এই অভিযানের টার্গেটে পরিণত হয় উক্ত এলাকায় অবস্থিত
জান্তা সরকারি মিলিশিয়াদের সদর দফতর । হামলায় সদর দফতরটি ধ্বংস হয়ে যায় এবং ১০ সৈন্য নিহত হয়,
বাকিরা দফতর ছেড়ে পালিয়ে যায়।
মুজাহিদদের ছোট-বড় বাকি ১৮ টি অভিযানে আরও কয়েক ডজন বুরকিনান সেনা হতাহত হয়েছে, যার কিছু
অফিসিয়ালি নিশ্চিতও করেছে আল-কায়েদা ।
এছাড়াও, অফিসিয়াল বিবৃতি অনুযায়ী 'জেএনআইএম' যোদ্ধারা এসকল অভিযান শেষে শত্রু বাহিনীর ১১টি
সাঁজোয়া যান ধ্বংস করার পাশাপাশি উদ্ধার করেছেন ৯টি দুশকা, ১৮টি সাঁজোয়া যান ও গাড়ি, ৭৩টি
মোটরসাইকেল, ৩৭টি পিকা, ১১টি এয়ারবিকা, ৩৯টি আরপিজি, ৮৯টি কালাশনিকভ, ২৬টি রকেট লঞ্চার এবং
অস্ত্র ও গোলাবারুদ ভর্তি ৩২৩টি বাক্স সহ অসংখ্য সামরিক সরঞ্জাম ।
এভাবে সেনাবাহিনীর স্থাপনা ও যুদ্ধাস্ত্র ধ্বংস ও কজা করে একদিকে জেএনআইএম মুজাহিদগণ সেনা-সরকারকে
দুর্বল করছেন, অপরদিকে নিজেদের শক্তিবৃদ্ধির মাধ্যমে অত্র অঞ্চলে ইসলামি শাসনের ভিত্তি রচনা করছেন।
আফগানিস্তানের ইসলামিক ইমারাত প্রশাসন ৩১ আগস্টকে সরকারি ছুটির দিন ঘোষণা করেছে। ২০২১ সালের
৩০ আগস্ট দিবাগত রাতে আগ্রাসী আমেরিকার শেষ সৈন্যটিও দেশটির ভূখণ্ড ছেড়ে চলে যায়। সেই হিসেবে
৩১ আগস্টকে সরকারি ছুটির দিন ঘোষণা করেছেন তারা।
7
আল-ফিরদাউস সংবাদ সমগ্র || জুন, ২০২৩ঈসায়ী
ইমারাতে ইসলামিয়া আফগানিস্তান প্রতিষ্ঠার পর নতুন প্রশাসনের ৩৫ তম মন্ত্রিসভার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় গত
১৩ জুন শুক্রবার। মন্ত্রিসভার এই বৈঠকে ইমারাতে ইসলামিয়া প্রশাসন বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
এই সভা থেকেই ৩১ আগস্টকে সরকারি ছুটির দিন হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
আফগানিস্তান থেকে প্রত্যাহার করা শেষ আমেরিকান সৈন্য ক্রিস ডোনাহু'র ৩০ আগস্ট দিবাগত রাতে
আফগানিস্তান ছেড়ে যাওয়া ছিলো মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটের আগ্রাসনের সমাপ্তির চিত্র । এটি আফগানিস্তান থেকে
১৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৮৯ সালে সোভিয়েত বাহিনীর প্রত্যাহারের প্রতিধ্বনি করেছিল।
মার্কিন নেতৃত্বাধীন ন্যাটো জোট ২০০১ সালের ৭ অক্টোবর আফগানিস্তানে আক্রমণ করেছিল। কিন্তু ২০০১-এ
শুরু হওয়া আগ্রাসী এই অভিযানের ২১ বছর পর, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের "আফগানিস্তান আযাডভেঞ্চারে" কোনও
বাস্তব সাফল্য অর্জন করতে পারেনি। তারা আফগান যুদ্ধে পরাজিত হয়েছে এবং দেশটি থেকে সেনা প্রত্যাহার
করতে বাধ্য হয়েছে।
বেসামরিক নাগরিকরা মার্কিন দখলের সময়টাতে সবচেয়ে বেশি মূল্য দিয়েছেন। দখলদার বাহিনীর বিমান ও
স্থল হামলায় হাজার হাজার বেসামরিক মানুষ নিহত এবং আহত হয়েছেন। আরও হাজার হাজার নিরপরাধ মানুষ
বছরের পর বছর কারারুদ্ধ থেকেছেন ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। সেই সাথে ২০ বছর ধরে যুদ্ধের কবলে
থাকা দেশটিতে অবকাঠামো, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য পরিষেবার মতো মৌলিক সমস্যাগুলি বড় সংকটের কারণ হয়ে
দাড়িয়েছিল। তালিবান আমলে শৃণ্যের কোটায় নামিয়ে আনা মাদকন্রব্যের উৎপাদন মার্কিন আক্রমণের পর পুনরায়
রেকর্ড ভাঙে।
আর এই যুদ্ধে মার্কিন জোটের সামরিক ক্ষয়ক্ষতিও ছিল ভারি। বলা হয় যে, মার্কিনীদের কেবল আর্থিক ক্ষতিই
১ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। সরকারী পরিসংখ্যান অনুসারে ২০ বছরের যুদ্ধে ২৪৫১ মার্কিন সৈন্য, ৪৫৫ ব্রিটিশ
সৈন্য এবং অন্যান্য দেশের ৬৮৯ সৈন্য নিহত হয়েছে। যদিও হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির বাস্তবিক এই সংখ্যা আরও
অনেক বেশি। বলা হয় যে, সিআইএ সদস্য, ভাড়াটে বাহিনী এবং অন্যান্য মার্কিন কর্মীদের যোগ করা হলে এই
পরিসংখ্যান অনেক বেশি হবে।
উল্লেখ্য যে, ৩০ আগস্ট ২০২১-শেষ হওয়া আফগানিস্তান যুদ্ধ ছিলো সাম্প্রতিক ইতিহাসের সবচেয়ে দীর্ঘতম এবং
সবচেয়ে ধ্বংসাত্মক যুদ্ধগুলির মধ্যে একটি। আর এতো ত্যাগের বিনিময়ে বিদেশি দখলদারদেরকে দেশছাড়া
করার দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতেই এবং মুসলিম উম্মাহর এই বিজয়কে মহিমান্বিত করে রাখতেই হয়তো
এই দিনটিকে সরকারি ছুটি হিসেবে ঘোষণা করলো তালিবান মন্ত্রীপরিষদ।
https://twitter.com/MrahmatNa/status/1670004244634542082?7t=-hKcwmT4WEFYo4E8b8Ac
WZg&s=19
আল-ফিরদাউস সংবাদ সমগ্র || জুন, ২০২৩ঈসায়ী
২০শে জুন, ২০২৩
ইউপিতে মুসলিম যুবকে মারধর ও "জয় শ্রী রাম" শ্লোগান দিতে বাধ্যকরণ
উত্তরপ্রদেশের বুলন্দশহরে মোবাইল ফোন চুরির অপবাদ দিয়ে তিন হিন্দু মিলে একজন মুসলিম যুবককে গাছের
সঙ্গে বেঁধে নির্মমভাবে মারধর করেছে। নির্যাতনের এক পর্যায়ে খুর দিয়ে মুসলিম ব্যক্তির মাথার চুল কামিয়ে
ফেলে এ হিন্দুরা ।
ভুক্তভোগী মুসলিম ব্যক্তির নাম সাহিল। তিনি দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে শ্রমিকের কাজ করেন। তাঁকে গাছের সঙ্গে
বেঁধে নির্মমভাবে মারধর করার ভিডিও দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায় এবং বিষয়টির সাথে জড়িত দুই অভিযুক্ত ব্যক্তিকে
আটক করা হয়। হামলাকারীদের নাম গজেন্দ্র, সৌরভ ও ধনি।
হিন্দুত্ববাদীরা মুসলিম যুবককে হিন্দুয়ানি শ্লোগান "জয় শ্রী রাম" বলতে বাধ্য করে। ঘটনাটি ১৩ জুন মঙ্গলবার
কাকোদ থানার সীমানায় ঘটে।
সাহিলের পরিবার এসএসপি অফিসে গিয়ে সেখানে গজেন্দ্র, সৌরভ এবং ধন্নির বিরুদ্ধে অপহরণ ও লাঞ্কনার
অভিযোগে মামলা করেন। তবে এখন পর্যন্ত সন্তোষজনক ব্যবস্থা গ্রহণের কোন খবর পাওয়া যায়নি।
সাহিলের বাবা জনাব শাকিল জানান, "হামলাকারীদের বিচারের আওতায় না এনে পুলিশ আমার ছেলে সাহিলকেই
আটক করেছে"
তিনি সাংবাদিকদের বলেন, "আমরা সকল অভিযুক্তের নাম উল্লেখ করেছি, কিন্তু এখন আমাদেরকে সমঝোতা
অথবা পরিণতি ভোগ করার হুমকি দেওয়া হচ্ছে"
মুসলিম নির্যাতনের এজাতীয় ঘটনায় ভারতের পুলিশ-প্রশাসনকে সবসময়ই মুসলিমদের প্রতি বৈষম্যমূলক এবং
অভিযুক্ত হিন্দুদের প্রতি সহানুভূতিপূর্ণ আচরণ করতে দেখা যায়। আর এভাবেই হিন্দুত্ববাদীদেরকে পরবর্তীতে
মুসলিম নির্যাতনে আরও বেশি উৎসাহের সাথে নিয়োজিত হতে দেখা যায়।
তথ্যসূত্র:
1. UP: Hindu men beat Muslim man, tonsure his head, force him to chant ‘Jai Shree Ram’
- https://tinyurl.com/47wtf6c2
0)
হু
আল-ফিরদাউস সংবাদ সমগ্র || জুন, ২০২৩ঈসায়ী
১৯শে জুন, ২০২৩
মহারাষ্ট্রে গো-রক্ষকদের পিটুনিতে মুসলিম ব্যক্তি খুন
ভারতের মহারাষ্ট্রে হিন্দুত্ববাদী বজরং দলের কর্মীরা গো-রক্ষার নামে গবাদি পশু পরিবহনকারী এক ২৩ বছর
বয়সী মুসলিম ব্যক্তিকে খুন করেছে। রাজ্যটির নাসিক জেলায় এ ঘটনা ঘটেছে। নিহত মুসলিমকে লুকমান
আনসারি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের রিপোর্ট অনুযায়ী, ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে গত ১০ জুন লুকমান আনসারির মৃতদেহ
ইগতপুরী এলাকার ঘাটনদেবীর একটি গিরিখাত থেকে উদ্ধার করার পর।
জানা যায়, আনসারি তার দুই সহকারীর সাথে ৮ জুন তাদের টেম্পোতে গবাদি পশু পরিবহন করছিলেন। পরে
সাহাপুরের ভিহিগাঁওয়ে ১০-১৫ জন বজরং কর্মী তাদের গাড়ি অবরোধ করে।
আক্রমণকারী বজরং দলের সদস্যরা জোরপূর্বক চারটি গরু গাড়ি থেকে নামিয়ে টেম্পোটির নিয়ন্ত্রণ নেয়। তারপর
ইগতপুরীর ঘাটনদেবীর একটি নির্জন স্থানে টেম্পো থামিয়ে তিনজনকে বেধরক মারধর শুরু করে । আনসারীর
সহযোগীরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও সে পালাতে পারেনি ।
পুলিশ জানিয়েছে, মারধরের কারণেই লুকমান আনসারির মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা
দায়ের করা হয়েছে এবং ৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলেও জানিয়েছে ভারতীয় পুলিশ।
উল্লেখ্য, গো-রক্ষার নামে প্রায় প্রতিনিয়তই উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের হাতে প্রাণ হারাচ্ছে নিরীহ মুসলিম গবাদি পশু
ব্যবসায়ী ও পরিবহনকারীরা । অনেক ক্ষেত্রে গরুর গোশত খাওয়ার মিথ্যা অভিযোগেও মুসলিমদের উপর হামলা
করছে উগ্র হিন্দুত্ববাদীরা। ভারতীয় প্রশাসন প্রতিবারই ন্যায় বিচারের আশ্বাস দিলেও, এখন পর্যন্ত গো-রক্ষার
নামে এসব হত্যা, হামলা আশাব্যঞ্জক হারে কমেনি। বরং, আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে।
তথ্যসূত্ৰ:
1. Maharashtra: Man transporting cattle lynched by ‘'gau 18155179151
- https://tinyurl.com/ykdwbdm2
মুসলিমদেরকে অর্থনৈতিকভাবে দূর্বল করতে গোটা সম্প্রদায়কে অর্থনৈতিক বয়কট করতে একের পর এক হিন্দু
নেতা ও ধর্মগুরুরা আহ্বান জানিয়ে আসছে। সেই ধারাবাহিকতায় এবার হিন্দুত্ববাদী ব্যক্তিত্ব ভিডি সাভারকারের
7
আল-ফিরদাউস সংবাদ সমগ্র || জুন, ২০২৩ঈসায়ী
নাতি রঞ্জিত সাভারকার মুসলিম সম্প্রদায়কে অর্থনৈতিক বয়কটের আহ্বান জানিয়েছে। সে হিন্দুদেরকে "শুধু
হিন্দু-থেকে-হিন্দু" বাণিজ্য করার আহ্বান জানিয়েছে।
গত শুক্রবার ১৬ জুন গোয়ায় ছয় দিনব্যাপী “বৈশ্বিক হিন্দু রাষ্ট্র মহোৎসব" এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সে এই
অর্থনৈতিক বয়কটের আহ্বান জানায়। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের খবর অনুসারে, উক্ত অনুষ্ঠানটি হিন্দু জনজাগৃতি
সমিতি দ্বারা আয়োজিত হয়।
হিন্দু জনজাগৃতি সমিতি সনাতন সংস্থার মিত্র একটি হিন্দুত্ববাদী সশস্ত্র সংগঠন। এই সংগঠনের সদস্যরা অনেক
মানবাধিকার কর্মীদের খুনের সাথেও জড়িত।
রঞ্জিত হিন্দু ধর্মাবলম্বীদেরকে ও তাদের অনুগামীদেরকে শুধুমাত্র 'ঝাটকা' মাংস খেতে বলেছে। তার ভাষ্যমতে,
এতে করে হিন্দুদের টাকা মুসলিম কসাইদের কাছে যাবে না। সে বলেছে “প্রচার হওয়া উচিত যে আমরা ইসলাম
ধর্ম অনুসারীদের সাথে ব্যবসা করব না। বাণিজ্য হবে হিন্দুদের মধ্যে ৷"
উল্লেখ্য, রঞ্জিত সাভারকারের দাদা বিনায়ক দামোদর সাভারকর ভারতের হিন্দু জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের প্রধান
মতাদর্শী ছিল। তার নাতীও মুসলিম বিদ্বেষ ছড়িয়ে দিতে দাদার দেখানো পথেই হাঁটছে বলেও স্পষ্ট প্রতীয়মান
হয়।
তথ্যসূত্র:
1. Hate speech: Savarkar's grandson calls for trade boycott of Muslims
- https://tinyurl.com/362ve69r
কাবুলে ৫টি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের উদ্বোধন করলেন ইসলামি ইমারতের অর্থনীতি বিষয়ক উপ-
প্রধানমন্ত্রী
আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে ইমারতে ইসলামিয়ার অর্থনীতি বিষয়ক উপ-
প্রধানমন্ত্রী মোল্লা আব্দুল গনি বারাদার আখুন্দ পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের উদ্বোধন করেছেন। গত ১৫ জুন
আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে তার সাথে যোগ দিয়েছিলেন কাবুলের মেয়র মৌলভী আব্দুল রশিদ।
অনুষ্ঠানে ভাষণকালে অর্থনৈতিক বিষয়ক উপ-প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেছেন যে, এই প্রকল্পগুলো শেষ করতে
পারলে এগুলো কাবুলের নাগরিকদেরকে অনেক সুবিধা প্রদান করবে। পাশাপাশি প্রকল্পগুলো কাবুলের অতিরিক্ত
ভিড় ও যানজটের সমস্যা দূর করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
টে
আল-ফিরদাউস সংবাদ সমগ্র || জুন, ২০২৩ঈসায়ী
একই দিনে শুরু হওয়া গুরুত্বপূর্ণ এই প্রকল্পগুলির মধ্যে একটি হল কাবুলের উত্তর-পশ্চিম সংযোগ সড়কের
নির্মাণকাজ, যা আঠারো মাসের মধ্যে শেষ করা হবে বলে জানায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ । এই রাস্তাটির দৈর্ঘ্য ৭.৫
কিলোমিটার এবং প্রস্থ ৩০ মিটার। প্রকল্পটির ব্যয় অনুমান করা হয়েছে ৫৩০ মিলিয়ন আফগানি, যা কাবুল
পৌরসভার অভ্যন্তরীণ রাজস্ব থেকে পূরণ করা হবে।
উল্লেখ যে, এই রাস্তাটির নির্মাণকাজ সফলভাবে সমাপ্ত হলে দেশের উত্তরাঞ্চলীয় প্রদেশসমূহের সাথে কাবুল-
হেরাত মহাসড়কের একটি সরাসরি সংযোগ স্থাপিত হবে, আর তা দেশজুড়ে যোগাযোগ সহজতর করবে।
বক্তৃতায় মোল্লা বারাদার অনুকূল নিরাপত্তা পরিস্থিতি তৈরির জন্য এবং শহরকে সুন্দর ও সুসংগঠিত করে গড়ে
তুলার জন্য কাবুল পৌরসভার পরিশ্রমী প্রচেষ্টারও ভূয়সী প্রশংসা করেন।
এর ঠিক ২ দিন আগে, অর্থাৎ গত ১৩ জুন আফগানিস্তানের কুনার প্রদেশের খাস কুনার জেলার শামকার গ্রামে
একটি ছোট বিদ্যুৎ বাঁধের নির্মাণ কাজ উদ্বোধন করেন ইমারতের জ্বালানি ও পানি মন্ত্রণালয়ের ইঞ্জিনিয়ারিং
সার্ভিসেস (॥APICA) প্রধান প্রকৌশলী ইজাজুল হক দানিশিয়া। স্থানীয় কর্মকর্তা ও এলাকার প্রবীণগণও বাঁধ
নির্মাণ কাজ উদ্বোধনের সময় উপস্থিত ছিলেন।
১৫ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষমতা সম্পন্ন এই বাঁধটির নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ৮ লক্ষ ৯ হাজার ৯১৫
আফগানি । নির্মাণের সার্বিক কাজ দুই মাসের মধ্যে শেষ করা হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা ৷
উল্লেখ্য যে, বাঁধটি "আফগানিস্তান পাওয়ার ড্যাম পিপলস ক্যাম্পেইন" এর আর্থিক সহায়তায় নির্মিত হচ্ছে।
ছোট-বড় এই প্রকল্পগুলো আফগানের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে ব্যাপক প্রণোদনা যোগাচ্ছে এবং আফগান
অর্থনীতিকে একটি মজবুত ভিত্তির উপর দাঁড় করাতে সক্ষম হচ্ছে। আর তালিবান উমারাগণ এবং ইমারতের
কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সততা, নিষ্ঠা ও ন্যায়পরায়নতা কাজগুলোকে স্বল্প খরচে ও স্বল্প সময়ে সফলভাবে সম্পন্ন
করতে ভূমিকা রাখছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পশ্চিমাদের সকল নিষেধাজ্ঞা ও বাঁধা-বিপত্তিকে পাশ কাটিয়ে দ্রুত ও টেকসই উন্নয়নের পথে
এগিয়ে যাচ্ছে ইমারতে ইসলামিয়া আফগানিস্তান।
তথ্যসূত্ৰ:
1. Deputy Economic PM Inaugurates 5 Projects in Kabul - https://tinyurl.com/33tz4z5v
2. Construction of power dam starts in Kunar - https://tinyurl.com/26rv85un
আল-ফিরদাউস সংবাদ সমগ্র || জুন, ২০২৩ঈসায়ী
₹সপ্রাপ্ত সামরিক যান মেরামতে ইমারতে ইসলামিয়ার টেকনিক্যাল টিমের সাফল্য
আফগানিস্তানের পাকতিকা প্রদেশের পুলিশ প্রশাসনের টেকনিক্যাল টিম দৈনিক প্রায় ১০টি সামরিক যান মেরামত
করেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। বাখতার নিউজ এজেনিকে পাকতিকা পুলিশ কমান্ডারের অফিস থেকে
এই তথ্য জানানো হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই যানগুলো সাধারণত প্রদেশটির পুলিশ অফিসাররা ব্যবহার করেন।
এর আগেও পাকতিকা পুলিশ প্রশাসনের টেকনিক্যাল ডিপার্টমেন্ট কিছু বিকল সামরিক যান ব্যবহার উপযোগী
করেছিলেন। এই কাজগুলো পাকতিকা পুলিশ ইউনিটের অসাধারণ কর্মদক্ষতাকে প্রমাণ করে।
অন্যদিকে আল-বদর সেনাবাহিনীর টেকনিক্যাল টিম ৩১টি ধ্বংসপ্রাপ্ত সামরিক যান মেরামত করেছেন বলে
জানিয়েছে আফগানিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় । এসব সামরিক যানের মধ্যে আছে তিনটি ট্যাংক, ১৩টি হামভি,
দুটি ক্রেন, একটি ফোর-ক্রিষ্ট, একটি তেলের ট্যাংকার, এবং ১১টি রেঞ্জার যান।
সাম্প্রতিক সময়ে ইমারতে ইসলামিয়া আফগানিস্তানের বিভিন্ন বাহিনীর টেকনিক্যাল টিম বিশাল সংখ্যক ধ্বংসপ্রাপ্ত
সামরিক যান মেরামত করে ব্যবহার উপযোগী করতে সক্ষম হয়েছেন। টেকনিক্যাল ডিপার্টমেন্টের এই ধরনের
সফলতা আফগানিস্তানের সামরিক উন্নতির জন্য খুবই আশাব্যজক।
নিজেরাই যানবাহন মেরামত করার সক্ষমতা অর্জন করার বেশকিছু সুবিধা রয়েছে। এর মাধ্যমে পুলিশ প্রশাসন
নিজেদের প্রয়োজন মতো সামরিক বাহনের ডিজাইন ও কাস্টমাইজ করতে পারবেন। এছাড়া, এতে সরকারের
বিপুল অংকের খরচও বেঁচে যাবে, অন্যের উপর নির্ভরশীল হওয়া লাগবে না।
এভাবে সামরিক যান মেরামতে সফলতা অর্জন করার মাধ্যমে আফগানিস্তানের সামরিক বাহিনী স্বয়ংসম্পূর্ণ
হওয়ার পথে আরও অগ্রসর হলো। অর্থনীতির ভিত্তি মজবুত করার পাশাপাশি সামরিক বাহিনীকেও স্বয়ংসম্পূর্ণ
হিসেবে তৈরির প্রচেষ্টায় তালিবান উমারাগণ আফগানিস্তানকে আঞ্চলিক পরাশক্তি হিসেবে উপস্থাপনের পথ সুগম
করছেন।
তথ্যসূত্র:
1. Al-Badr Corps Repairs 31 Military-Damaged Vehicles
- https://tinyurl.com/h7sz2bas
2. Paktika Military Personnel Repairing Ten Military Vehicles Daily: Officials
- https://tinyurl.com/yy2trv72
UE
আল-ফিরদাউস সংবাদ সমগ্র || জুন, ২০২৩ঈসায়ী
১৭ই জুন, ২০২৩
ট্রেনে ভ্রমণকারী মুসলিম পরিবারের সাথে ভারতীয় রেল কর্মীদের বিদ্বেষপূর্ণ আচরণ
৯ জুন পানভেল থেকে কোঝিকোড়ে রাজধানী এক্সপ্রেসে ভ্রমণকারী একটি মুসলিম পরিবারের সাথে রেলের
কর্মীরা প্রবল বিদ্বেষী আচরণ করেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভুক্তভোগী মুসলিম পরিবারটির একজন সদস্য
জানিয়েছেন, গত বুধবার রেলওয়ের দুই স্টাফ সদস্য তাকে তার ধর্ম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করার পর থেকে ঘটনাটির
সূত্ৰপাত হয়।
তিনি জানান, "আমি মুসলিম এটা জানার পর আমার পরিবারের প্রতি কর্মীদের আচরণ দৃশ্যমানভাবে ভিন্ন হয়ে
ওঠে। কর্মীরা আমাদের দেওয়া নোংরা কম্বল পরিবর্তন করতে অস্বীকার করে । আমাদের বাসি এবং অস্বাস্থ্যকর
খাবার পরিবেশন করে ।" তিনি আরও অভিযোগ করেছেন যে, স্টাফ সদস্যরা তাকে অভিযোগ দায়ের করতে
নিষেধ করে। অভিযোগ জানালে 'অসুবিধা' হবে বলে হুমকি দেয়।
তিনি আরও বলেছেন, "আমাদের ছাড়া বাকি বগিতে যারা ভ্রমণ করেছিল, তারা তাদের সকালের নাস্তা পেয়েছে"
কিন্তু তারা নাস্তা না পাওয়ার বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে রেল কর্মীরা বলে যে, তাদের সকালের খাবার বিলম্বিত
হবে। কারণ তাদের জন্য নাস্তা "বিশেষভাবে প্রস্তুত করা হচ্ছে" বলে জানায় তারা।
খাবার আসার পর দেখা যায় যে, তারা যে নাস্তা পেয়েছেন তা বাসি এবং খাওয়ার অনুপযুক্ত ৷
তাদেরকে দুপুরের খাবারও অনেক বিলম্বে দেওয়া হয়। তিনি বলেন, "আমরা যখন খাবার খুললাম তখন অন্য
যাত্রীরা আমাদের দিকে তাকাতে থাকে । কেননা খাবারগুলো থেকে খুব খারাপ গন্ধ বের হচ্ছিল। পরে প্রাপ্ত
খাবারের আরও পরীক্ষা করে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে তা মারাত্মকভাবে দূষিত ছিল।"
ঘটনার সময় মুসলিম মহিলার দ্বারা ধারণ করা একটি ভিডিওতে দেখা যায়, এ মুসলিমদেরকে "বিশেষভাবে"
সরবরাহ করা এঁ খাবারের প্রকৃত অবস্থা কেমন ছিল এবং তা কতটুকু অস্বাস্থ্যকর ছিল। রেলওয়ে পুলিশ দ্বারা
পরিচালিত রেলওয়ে কর্মীদের একটি অনানুষ্ঠানিক জিজ্ঞাসাবাদের সময় এ ভিডিওটি তাদেরকে দেখানোও হয়।
শুধু তাই নয়, খাবারটি বিতরণের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মচারীরা স্বীকার করেছে যে, খাবারগুলো আবর্জনা থেকে উঠিয়ে
এনে এ মুসলিমদেরকে দেওয়া হয়েছিল।
অভিযোগকারী তখন একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্থাপন করে ব্যক্ত করেন, "আমরা যদি মারাত্মক খাদ্য বিষক্রিয়ায়
ভুগতাম তাহলে কী হতো? এটা সত্য যে আমরা সকালের নাস্তা করার পর বমি করে ফেলেছিলাম, কিন্তু ক্ষতি
আরও খারাপ হতে পারত"
আল-ফিরদাউস সংবাদ সমগ্র || জুন, ২০২৩ঈসায়ী
এভাবেই যত্রতত্র মুসলিমদের প্রতি নানানভাবে বিদ্বেষমূলক আচরণ প্রকাশ করে যাচ্ছে হিন্দুত্ববাদীরা এবং তাদের
বয়ান-বক্তৃতায় প্রভাবিত হিন্দুরা। আর এদের সংখ্যা দিন দিন আশংকাজনক হারে বাড়ছে, সেই সাথে পাল্লা দিয়ে
বাড়ছে মুসলিমদের প্রতি বিদ্বেষ প্রকাশের ঘটনাও ।
বিশেষজ্ঞরা অনেক আগেই সতর্ক করেছেন যে, এসকল বিদ্বেষমূলক ঘটনার ক্রমপ্রবাহ ভারতকে অচিরেই একটি
ব্যাপক ভিত্তিক মুসলিম গণহত্যার দিকে নিয়ে যাবে।
তথ্যসূত্ৰ:
1. Muslim woman alleges railway staff asked her religion, served stale, unsanitary food
- https://tinyurl.com/4wcjs4h9
সম্রাট আওরঙ্গজেবকে নিয়ে পোস্ট করায় ১৪ বছরের মুসলিম কিশোরের বিরুদ্ধে মামলা
মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেবকে মহিমান্বিত করা একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টের জন্য মহারাষ্ট্র পুলিশ বিড জেলার
অষ্টী শহরে ১৪ বছর বয়সী এক মুসলিম ছেলের বিরুদ্ধে মামলা করেছে।
ছেলেটিকে ভারতীয় দণ্ডবিধির বিধানের এমন অধীনে অভিযুক্ত করা হয়েছে, যা ধর্মীয় অনুভূতিকে ক্ষুব্ধ করার
উদ্দেশ্যে এবং জনসাধারণের দুর্দশা সৃষ্টিকারীর বিরুদ্ধে করা হয়। অথচ, পোস্টে কারো ধর্মীয় অনুভূতিকে ক্ষুব্ধ
করবে এমন কোন বিষয় ছিল না। পোস্টগুলিতে অডিও বার্তা সহ ১৮ শতকের মহীশূর শাসক টিপু সুলতান
এবং আওরঙ্গজেবের ছবি শেয়ার করা হয়েছে। হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠীগুলি দাবি করেছে যে, অডিও বার্তীগুলি হিন্দুদের
অনুভূতিতে আঘাত করেছে।
তবে পরবর্তীতে ছেলেটি পোস্ট ডিলিট করে দেওয়ায়, সেখানে ঠিক কোন ছবি ব্যবহার করা হয়েছিল তা সনাক্ত
করা সম্ভব হয়নি।
পোস্টের বিষয়ে বিডের পুলিশ সুপার নন্দকুমার ঠাকুর পিটিআই সংবাদ সংস্থাকে জানিয়েছে, "একটি অভিযোগ
পাওয়া গেছে, যার ভিত্তিতে অষ্টী থানায় একটি অপরাধ নথিভুক্ত করা হয়েছে। এরপর, কিছু স্থানীয় হিন্দুত্ববাদী
সংগঠন বন্ধের (অবরোধ) ডাক দেয়৷"
পুলিশ জানিয়েছে, পাশাপাশি পোস্টটির কারণে হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলো সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টি করছে বুঝতে
পেরে মুম্বাইতে থাকা ছেলেটি পোস্টটি ডিলিট করে দেয়। শুধু তাই নয়, তার পোস্টের কারণে কেউ আঘাত
পেলে ক্ষমা চেয়ে একটি ভিডিওও আপলোড করেছিল সে।
পুলিশ আরও জানায়, "তবুও ছেলেটি যখন শহরে ফিরে আসবে তখন তাকে আটক করা হবে এবং শিশুদের
জন্য একটি সংশোধন সুবিধায় রিমান্ডের জন্য শিশু কল্যাণ কমিটির সামনে হাজির করা হবে ।"
জি
আল-ফিরদাউস সংবাদ সমগ্র || জুন, ২০২৩ঈসায়ী
মূলত হিন্দুত্ববাদীরা মুঘল শাসকসহ অন্যান্য মুসলিম শাসকদেরকে বহিরাগত, দখলদার ও হিন্দুদের উপর
নির্যাতনকারী বর্বর হিসেবে তুলে ধরে। ইতিহাসের বই থেকে মুসলিম শাসকদের গৌরবমাখা অবদানগুলো মুছে
উপমহাদেশের ইতিহাসকেই বিকৃত করে দিয়েছে হিন্দুত্ববাদীরা। তাই মুসলিম শাসকদের প্রকৃত ইতিহাস তুলে
ধরলেই হিন্দুত্ববাদীরা অযৌক্তিকভাবে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে, আর শুরু করে মুসলিমদের হয়রানি এবং তাদের বিরুদ্ধে
প্রশাসনকে চাপ প্রয়োগ ।
প্রশাসনও অযৌক্তিক এসব অভিযোগ আমলে নিয়ে মুসলিমদের উপর ধর-পাকর শুরু করে; যেমনটা করা হয়েছে
এই ক্ষেত্রে। আর এমন দৃশ্যই এখন একটা সাধারণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে ভারতজুড়ে।
তথ্যসূত্ৰ:
1. Maharashtra: 14-year-old Muslim boy booked over social media post on Aurangzeb
- https://tinyurl.com/jra4cmx8
টিটিপির সফল ত্যা্ুশে অন্তত ১২ পাক সেনা নিহত
অপারেশন অব্যাহত রেখেছে দেশটির জনপ্রিয় ইসলামি প্রতিরোধ বাহিনী তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তানের
(টিটিপি)। সম্প্রতি খাইবার এজেন্সিতে টিটিপির এমনই এক অভিযানে পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর অন্তত ৯
সৈন্য নিহত এবং আরও অসংখ্য সৈন্য আহত হয়েছে।
স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, টিটিপির প্রতিরোধ যোদ্ধাগণ গত ৯ জুন রাতে পেশোয়ারের খাইবার জেলার সীমান্তবর্তী
জামরুদ এলাকায় সামরিক বাহিনীর একটি চেকপোস্ট লক্ষ্য করে লেজার গান এবং রকেট লগর ব্যবহার করে
সফলভাবে আক্রমণ চালান। ফলস্বরূপ ঘটনাস্থলেই ৫ এফসি (সীমান্তরক্ষী) সদস্য নিহত এবং অন্য ৩ সদস্য
আহত হয়।
চেক-পোস্টে সংঘর্ষ চলাকালে এফসি সদস্যদের সহায়তা করতে এ এলাকায় পাকি সেনাবাহিনীর একটি দল
অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু বিষয়টি শুরু থেকেই অনুমান করতে পেরে টিটিপির মুজাহিদগণ পথেই
তাদেরকে ত্যাম্ুশ করার প্রস্তুতি নিয়ে রাখেন।
সেনাবাহিনীর উপর মুজাহিদদের এই সফল ত্যাম্বশের ফলে এই বাহিনী চেকপোস্টে আটকা পড়া এফসি
সদস্যদের কোন সাহায্যই করতে পারেনি। উল্টো মুজাহিদদের অতর্কিত এই আক্রমণে সেনাবাহিনীর আরও ৫
সদস্য নিহত হয় এবং অন্য অনেক সৈন্য আহত হয়।
0)
আল-ফিরদাউস সংবাদ সমগ্র || জুন, ২০২৩ঈসায়ী
তবে অতর্কিত এই ত্যাম্বশ অভিযানের সময় মুহাম্মদ নামে টিটিপির একজন মুজাহিদও শাহাদাত বরণ করেন।
১৫ই জুন, ২০২৩
আল-কায়েদার দুদিনের অপারেশনে ১৪ কেনিয়ান সেনা নিহত
সোমালিয়ার দক্ষিণ সীমান্ত সংলগ্ন দেশ কেনিয়ায় ইসলামি প্রতিরোধ বাহিনী হারাকাতুশ শাবাবের দুদিনের
অভিযানে কেনিয়ান সামরিক বাহিনীর ২ কর্মকর্তা সহ অন্তত ১৪ সৈন্য নিহত হয়েছে বলে জানা গেছে। স্থানীয়
সুত্র মতে, হারাকাতুশ শাবাব আল-মুজাহিদিন গত ১২ থেকে ১৩ জুন কেনিয়ায় গারিসা ও লামু রাজ্যে পরপর
৭টি সামরিক অপারেশন পরিচালনা করছেন।
মুজাহিদদের সবচাইতে সফল অভিযানটি চালানো হয় ১৩ জুন মঙ্গলবার, কেনিয়ার লামু রাজ্যের সাংগালো
এলাকায়।
এই এলাকায় কেনিয়ান সেনাদের একটি দলকে মুজাহিদগণ ত্যান্ুশ করলে সামরিক বাহিনীর একটি সাঁজোয়া
যান ধ্বংস হয় এবং এই দলের অন্তত ১০ সৈন্য নিহত হয়। এসময় মুজাহিদগণ এই দলটি থেকে ১টি পিকা
অস্ত্র, ১টি 116 অস্ত্র, ৪টি ক্লাশিনকোভ এবং প্রচুর পরিমাণে গোলাবারুদ জব্দ করেছেন।
এর আগের দিন অর্থাৎ ১২ জুন তারিখে গারিসা রাজ্যের ইয়াম্বিস এলাকায় কেনিয়ান সেনাদের টার্গেট করে
পরপর দুটি অভিযান পরিচালনা করেন মুজাহিদগণ। এতে জেনারেল সার্ভিস ইউনিটের ২ কর্মকর্তা সহ কেনিয়ান
স্পেশাল ফোর্সের (এসওজি) বহু সংখ্যক সৈন্য নিহত হয়। সেই সাথে ধ্বংস হয় সামরিক বাহিনীর একটি
সাঁজোয়া যান ও একটি গাড়ি।
মুজাহিদগণ তাদের বাকি অভিযানগুলো এই দুই রাজ্যের ফাফী, ওয়ালমারু ও মিলিমানী এলাকায় পরিচালনা
করেন। এখানেও মুজাহিদদের পরিচালিত অভিযানে আরও বেশ কিছু সৈন্য হতাহত হয়।
সোমালিয়ার পাশাপাশি কেনিয়াতেও পশ্চিমা সমর্থিত সামরিক বাহিনিতে হতাহতের সংখ্যা পাল্লা দিয়ে বাড়তে
থাকার বিষয়টি আল-কায়েদা পূর্ব আফ্রিকা শাখা হারাকাতুশ শাবাবের সামরিক ও অর্থনৈতিক শক্তিমত্তার
উত্থানকেই ইঙ্গিত করছে বলে মনে করা হয়। একই সমান্তরালে বৃদ্ধি পাচ্ছে আল-কায়েদার জনসমর্থনও।
শাবাবের জোড়া ইস্তেশহাদী অপারেশনে ইথিওপিয়ার ২০১ সেনা হতাহত
7
আল-ফিরদাউস সংবাদ সমগ্র || জুন, ২০২৩ঈসায়ী
আল-কায়েদা পূর্ব আফ্রিকা শাখা হারাকাতুশ শাবাব আল মুজাহিদিন সম্প্রতি সোমালিয়া-ইথিওপিয়া সীমান্ত লাইনে
ইথিওপিয়ার একটি বড় সামরিক ঘাঁটিতে জোড়া ইস্তেশহাদী অপারেশন চালিয়েছেন। এতে দখলদার দেশটির
অন্তত ১২৩ ভ্রুসেডার সৈন্য নিহত এবং আরও ৭৮ সৈন্য আহত হয়েছে।
সূত্রমতে, গত ৭ জুন স্থানীয় সময় সকাল ১০টার দিকে পরপর দুটি গাড়ি বোমা বিস্ফোরণের মাধ্যমে অপারেশনটি
চালানো হয়েছে। সীমান্তবর্তী ডলো শহরে অবস্থিত ইথিওপিয়ার এই সামরিক ঘাঁটিতে সেসময় অন্তত ৩ হাজার
সৈন্য অবস্থান করছিল। এছাড়াও রাজ্যের বাকি অংশের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে এই অঞ্চলে মোতায়েন করা হয়েছে
১০ হাজার ইথিওপিয়ান সৈন্য।
আশ-শাবাবের বিবৃতি অনুযায়ী, বোমা বোঝাই গাড়ি নিয়ে মুজাহিদগণ তাদের প্রথম বিস্ফোরণটি ঘটান সামরিক
ঘাঁটিটির কমান্ড সেন্টারে । এখানে জিজু রাজ্যের কিছু অংশের উপর দখল বজায় রাখা ইথিওপিয়ান বাহিনীর
প্রধান সামরিক কর্মকর্তারা অবস্থান করছিল বলে জানা গেছে।
মুজাহিদগণ তাদের দ্বিতীয় বিস্ফোরণটি ঘটান ঘাঁটিটির অস্ত্র, গোলাবারুদ ও সামরিক সরঞ্জামে পরিপূর্ণ বিশাল
একটি গুদাম (ডিপো) লক্ষ্য করে। দ্বিতীয় বিস্ফোরণটি এতটাই শক্তিশালী ও বিকট শব্দে ঘটে যে, আশপাশের
এলাকায়ও কম্পন সৃষ্টি হয় এবং আগুনের বিশাল কুন্ডলী উপরের দিকে ওঠতে দেখা যায়
আশ-শাবাবের সামরিক নেতৃত্ব কর্তৃক প্রকাশিত বিবৃতি থেকে অভিযানের প্রাথমিক ফলাফল সম্পর্কে জানা যায়
যে, এই অপারেশনে এ সামরিক ডিপো এবং জেনারেল কমান্ড সেন্টারসহ ঘাঁটিটির একাংশ ধ্বংস হয়ে গেছে।
ধ্বংস হয়ে গেছে এঁ ঘাঁটিতে থাকা অস্ত্রের বিশাল ভান্ডারসহ বিপুল সংখ্যক সামরিক যানও। সেই সাথে ক্রুসেডার
দেশটির অন্তত ১২৩ সৈন্য নিহত এবং আরও ৭৮ সৈন্য আহত হয়েছে।
উল্লেখ্য যে, মাত্র ১১ দিনের মাথায় শত্রুদের লক্ষ্য করে এটি ছিলো হারাকাতুশ শাবাবের তৃতীয় বৃহৎ ও সফল
অপারেশন। আগের দুটি অপারেশনে উগান্ডান বাহিনীর ২১৭ জন এবং ইরিত্রিয়ায় প্রশিক্ষিত সোমালি স্পেশাল
ফোর্সের ২০৯ জন সৈন্য নিহত হয়েছে।
১৪ই জুন, ২০২৩
ইউপিতে মন্দির ভাঙচুরের ঘটনায় ৪ হিন্দু আটক; মুসলিমদের উপর দোষ চাপানোর চেষ্টা
ভারতের উত্তর প্রদেশে চারটি মন্দিরে হিন্দু দেবদেবীর প্রায় এক ডজন মূর্তিকে ভাঙচুর করা হয়। পরে এই
কাজে জড়িত চার হিন্দুকে আটক করেছে উত্তর প্রদেশ পুলিশ।
ও
আল-ফিরদাউস সংবাদ সমগ্র || জুন, ২০২৩ঈসায়ী
বুলন্দশহর জেলার বড়াল গ্রামে গত ০১ জুন ভোরবেলা ঘটনাটি ঘটেছে। চার অভিযুক্তের নাম হরিশ শর্মা, শিবম,
কেশব এবং অজয়। এরা সকলেই বড়াল এলাকার বাসিন্দা
যদিও ইতিমধ্যে এটা প্রমাণিত হয়েছে যে, প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনায় হিন্দু ধর্মাবলম্বীরাই জড়িত, তবুও সামাজিক
যোগাযোগ মাধ্যমে অনেক হিন্দুত্ববাদী ইচ্ছাকৃতভাবে এটিকে হিন্দুদের উপর আক্রমণ বলে অভিহিত করেছে।
অনেকেই দাবি করেছে যে, এটি মুসলিম সম্প্রদায়ের একটি কাজ হতে পারে।
হচ্ছে। তবে অনেক সময় গোষ্ঠীগত দ্বন্দ্ব বা এলাকায় এলাকায় গণ্ডগোল থেকেও হিংসাবশত এক পক্ষ আরেক
পক্ষের মূর্তি ভাঙ্গার ঘটনাও ঘটতে দেখা যায়।
কারণ যাই হোক, এই জাতীয় ঘটনাগুলোতে মুসলিমদের দায়ী করে তাদের উপর সাম্প্রদায়িক সহিংসতা ঘটানোর
জন্য একপক্ষ সবসময়ই প্রস্তুত থাকে; যেমনতা দেখা গিয়েছে এই ঘটনার ক্ষেত্রেও ।
1. UP: 4 Hindu men held for Bulandshahr temple vandalism-
https://tinyurlL.com/b59my9pw
বাংলাদেশ অভ্যন্তরে বিএসএফের গুলি, নিহত ৫০ উ্ধ্ব প্রবীণ
সীমান্তে বাংলাদেশি হত্যা থামছেই না। গত পাঁচ দিনে ৪ বাংলাদেশির ওপর গুলি চালিয়েছে বিএসএফ ৷ এর
মধ্যে ৩ জনকে বাংলাদেশ ভূ-খণ্ডে ও অপর ১ জনকে ভারতের অভ্যন্তরে গুলি করে বিএসএফ ৷ তাদের মধ্যে
গত ১০ জুন ঠাকুরগাঁওয়ে জিন্নাত আলী নামের ৫০ উধ্ব এক বাংলাদেশি খুন হয়েছেন। জানা যায়, তিনি
সীমান্তের খুব কাছাকাছি চলে গিয়েছিলেন। এতেই বিএসএফ গুলি করে এ বৃদ্ধাকে।
খুনের এ ঘটনা এমন সময় ঘটলো, যখন সীমান্ত হত্যা বন্ধে বিজিবি-বিএসএফ এর মহাপরিচালক পর্যায়ের চার
দিনের সীমান্ত সম্মেলন চলছে ভারতের নয়াদিল্লিতে। গত ১০ জুন থেকে এ সম্মেলন শুরু হয়েছে। আর এই
সম্মেলনের মধ্যেই সীমান্তের বাংলাদেশ অংশে গুলি চালিয়েছে বিএসএফ ৷
অন্যদিকে গত ৫ জুন লালমনিরহাট সীমান্তে ইউসুফ মিয়া নামে এক বাংলাদেশিকে খুন করে বিএসএফ ৷ জানা
যায়, সীমান্ত পার হয়ে ভারতের অভ্যন্তরে পৌঁছেছিল একদল বাংলাদেশি । সেখানে কয়েকজন ভারতীয় নাগরিকের
সঙ্গে মিলে তারা গরু আনার চেষ্টা করছিল। এ সময় বিএসএফ তাদের গ্রেফতার না করে গুলি ছুঁড়ে। এতে
ইউসুফ মিয়া নিহত হয়, অন্যরা পালিয়ে চলে আসে।
G
আল-ফিরদাউস সংবাদ সমগ্র || জুন, ২০২৩ঈসায়ী
এর আগে গত ৬ জুন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা সীমান্তে বাংলাদেশ অংশে গরু চড়াচ্ছিলেন দুই কৃষক। এ সময়
হঠাৎই তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোঁড়ে বিএসএফ । এতে দু'জন কৃষকই আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার
করে হাসপাতালে নিয়ে যায়।
প্রতি বছর কয়েক দফা সীমান্ত সম্মেলনের আয়োজন করে বাংলাদেশ-ভারত । এ পর্যন্ত ৫৩ বার সীমান্ত সম্মেলন
অনুষ্ঠিত হয়েছে দু'দেশের মধ্যে। বরাবরই সীমান্ত হত্যা শূন্যের কোটায় আনার বিষয়ে নানা প্রতিশ্রুতি দেয়
ভারত। কিন্তু এই প্রতিশ্রুতি কেবল মুখেই রয়ে যায়। বাস্তবে বাংলাদেশিদের (শুট এট সাইট) দেখা মাত্রই গুলি
করে বিএসএফ । বাংলাদেশি মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, সীমান্তে কেউ অপরাধ করলে আইনের আওতায়
আনতে হবে। কিন্তু ভারত এ বিষয়টি না মেনে গুলি করে হত্যা করছে, যা মানবাধিকারের চরম লজ্ঘন।
একেতো সীমান্তে মানবাধিকার লঙ্ঘন করছে ভারত, অন্যদিকে বাংলাদেশ ভূ-খণ্ডের অভ্যন্তরে গুলি করছে
বিএসএফ- যা চরম পর্যায়ের ওদ্ধত্য প্রদর্শন । কিন্তু বাংলাদেশ সরকার কিংবা বিরোধী দল কেউই এ বিষয়ে
জোরালো আওয়াজ তুলছে না।
তথ্যসূত্ৰ:
১। লালমনিরহাট সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত - https://tinyurL.com/2p89v54d
২। কসবা সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে দুই কৃষক আহত - https://tinyurl.com/22drt3x7
৩। বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি খুন - https://tinyurl.com/54fx5dhe
উত্তরপ্রদেশের কৌশাম্বি জেলার দরভাইসপুর গ্রামের মুসলিম বাসিন্দা জুনায়েদ বাবু। তিনি জানিয়েছেন, ইউপি
পুলিশ এর দুই সদস্যকে জুতা পরে মসজিদে প্রবেশ না করতে বলায় তাকে পুলিশ হেফাজতে নির্মমভাবে মারধর
করা হয়েছে। দরভাইসপুর গ্রামটি কোখরাজ থানার আওতাধীন।
সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত একটি ভিডিওতে জুনায়েদকে তার কথার বিবরণ দিতে দেখা গেছে। তিনি
বলেন, "দুইজন পুলিশ কনস্টেবল, যারা একটি মসজিদে নামাজের আযান দেওয়ার জন্য ব্যবহৃত লাউডস্পিকার
সরাতে আসে, তারা জুতা পরে সোজা ভিতরে ঢুকেছিল এবং আমি তাদের না করার পরেও তারা আমার কথা
শোনেনি ৷"
“ফিরে আসার সময় তারা আমাকে “ইয়ে জায়াদা বোল রাহে’ বলে ইশারা করে এবং আমাকে টেনে তাদের
পুলিশ জিপে তুলে নিয়ে যায়।
7
আল-ফিরদাউস সংবাদ সমগ্র || জুন, ২০২৩ঈসায়ী
তিনি আরও বলেন, "পুলিশ আমাকে থানায় নিয়ে যায় এবং সেখানে আমাকে আটকে রাখে এবং আমার শরীর,
হাত ও কানে জোরে জোরে মারতে থাকে । মারধরের কারণে আমার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ক্ষত হয়ে গেছে।"
আর তার শরীরের ক্ষত চিহগুলো প্রমাণ করে যে তাকে প্রচুর মারধর করা হয়েছে।
জুনায়েদ বলেছেন, সেদিন পরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে অফিসার তাকে হুমকি দিয়েছে যে, থানায় যা
হয়েছে তা প্রকাশ করলে তার অবস্থা ভয়াবহ হবে।
স্থানীয় সংবাদপত্র অনুসারে, জুনায়েদ পুলিশ সুপারের সাথে দেখা করে পুরো ঘটনাটি জানায় এবং তার ক্ষতগুলিও
দেখায়। পুলিশ সুপার তাকে তদন্তের পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার মৌখিক আশ্বাস দিয়েছে। তবে অপরাধীদের
এখনো কোন ধরণের বিচারের আওতায় আনা হয়নি।
1. UP: Muslim youth alleges assault in police custody after requesting officers to remove
shoes in mosque -https://tinyurl.com/5n9a7k63
১৩ই জুন, ২০২৩
আল-ফিরদাউস নিউজ বুলেটিন || জুন ২য় সপ্তাহ, ২০২৩ঈসায়ী
https://alfirdaws.org/2023/06/13/63424/
বিনা কারণে একজন আলেমকে কর্ণাটক পুলিশের হেনস্তা
ভারতের কর্ণাটক রাজ্যে বিনা কারণে পুলিশের হাতে হেনস্তার শিকার হয়েছেন শিরুর এলাকার একজন স্থানীয়
ইসলামিক স্কলার ৷ জানা যায়, স্থানীয় একটি সরকারি স্কুলের ইসলামিক স্টাডিজের শিক্ষক মাওলানা আব্দুল
আলিম নদভিকে গত ২ জুন কোন কারণ ছাড়াই পুলিশ হেনস্তা করে।
মাওলানা আব্দুল আলিম নদভী মাকতুব মিডিয়াকে বলেছেন, “তারা আমার ইসলামিক পোশাক সম্পর্কে
অবমাননাকর মন্তব্য করে আমাকে শারীরিকভাবে লাঞ্চিত করতে শুরু করে। এমনকি, তারা আমাকে হুমকি
দিয়েছে এবং ভয় দেখিয়েছে যে, আমি যদি তাদের ব্যাপারে একটি শব্দও উচ্চারণ করার সাহস করি তবে
আমাকে গ্রেপ্তার করা হবে এবং কঠোর নির্যাতন করা হবে।”
UE
আল-ফিরদাউস সংবাদ সমগ্র || জুন, ২০২৩ঈসায়ী
স্থানীয় সূত্রমতে, রাস্তার পাশে হট্টগোল এবং অনেক লোকের জটলা দেখে পরিস্থিতি সম্পর্কে জানার জন্য মাওলানা
সাহেব লোকজনকে কিছু প্রশ্ন করেন। হঠাতই পুলিশ সেখানে উপস্থিত হয়ে মাওলানা সাহেবকে হেনস্তা করা
শুরু করে।
মাওলানা সাহেব বলেন, “যখন আমি ঘটনাস্থলে গেলাম, এত লোকজন আর হট্টগোল দেখে আমার মনে অনেক
প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছিল ৷"
“সাব ইন্সপেক্টর নিরঞ্জন গৌড়া এবং বাইন্দুর থেকে পুলিশ কনস্টেবলসহ পুলিশ কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে। তারা
মূল ঘটনার বিষয়ে কোন পদক্ষেপ না নিয়ে কোনো কারণ ছাড়াই আমাকে শারীরিকভাবে আঘাত করে এবং
মৌখিকভাবে গালিগালাজ করতে শুরু করে।”
পুলিশের এমন অন্যায় আচরণ উপস্থিত অনেক ব্যক্তিকে ক্ষুব্ধ করে। তারা শিরুর জিমের কাছে জমা হয়ে
মাওলানা আব্দুল আলিম নদীকে হেনস্তার বিচারের দাবি জানায়
পুলিশ তাদের ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চাইতে অস্বীকৃতি জানালে, বিক্ষুব্ধ জনগণ এ ইন্সপেক্টরের বিরুদ্ধে একটি
মামলা দায়ের করে।
স্থানীয় বাসিন্দারা পুলিশের এমন কর্মকাণ্ডের পূর্ণ তদন্ত করার এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে যথাযথ
ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
হট্টগোল সম্পর্কে জানা যায় যে, একজন হিন্দু ছেলে ও একজন মুসলিম মেয়ে প্রেমের সম্পর্কের জের ধরে বাড়ি
থেকে পালিয়ে যাওয়ার সময় সেখানে স্থানীয়দের হাতে আটক হয়। ধারণা করা হচ্ছে, যেহেতু একটি হিন্দু ছেলে
মুসলিম মেয়েকে নিয়ে পালাচ্ছিল, তাই ঘটনাটিকে ধামাচাপা দিতেই পুলিশ মাওলানা সাহেবকে হেনস্তা করেছে।
তথ্যসূত্র:
1. Karnataka: Police accused of manhandling local Muslim scholar (Maktoob)
-https://tinyurlL.com/2s4ymba9
ভারতে যাত্রীকে নামাজ পড়তে দেওয়া বাস চালক বরখাস্ত
দুই যাত্রীকে নামাজ পড়ার সুযোগ করে দেওয়ায় একজন বাস চালক এবং তার সহকারীকে সাসপেন্ড করেছে
ভারতের উত্তর প্রদেশ রাজ্য সড়ক পরিবহন কর্পোরেশন (UPSRIC)।
আল-ফিরদাউস সংবাদ সমগ্র || জুন, ২০২৩ঈসায়ী
গত ৪ জুন, দিল্লিগামী 'জনরথ' এসি বাসটি বেরেলি টার্মিনাল ছেড়ে যায়। বাসটির চালকের মতে, কিছু যাত্রীকে
টয়লেট ব্যবহার করতে দেওয়ার জন্য রামপুর জেলার মিলাক এলাকায় কয়েক মিনিটের বিরতি দেন তিনি । এরই
মাঝে দুইজন মুসলিম যাত্রী নামাজ পড়ার ইচ্ছা প্রকাশ করলে, ড্রাইভার তাতে সম্মত হন।
টুইটারে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, কিছু যাত্রী এ চালকের সাথে বাকবিতণ্ডায় লিপ্ত। বাস চালক
পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করছেন।
টুইটারে এক যাত্রী পোস্ট করেছে, বাসটি থামার পর দুই যাত্রী নেমে নামাজ পড়া শুরু করে। চালকের বিরুদ্ধে
অভিযোগ আনার পর, ইউপিএসআরটিসির সহকারী আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক (এআরএম) সঞ্জীব কুমার শ্রীবাস্তব এ
বাসের চালক কেপি সিং এবং সহকারী মোহিত যাদবকে বরখাস্ত করে।
ইউপিএসআরটিসি আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক (বারেলি) দীপক চৌধুরী বলেছে, কেপি সিং এবং যাদবকে প্রাথমিক
তদন্তের পরে বরখাস্ত করা হয়েছে। একটি ব্যস্ত হাইওয়েতে বাস থামিয়ে যাত্রীদের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ফেলা যায়
না। বরখাস্ত হওয়া কর্মীরা এই পদক্ষেপে বিস্মিত এবং বলেছে যে, এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে তারা আপিল
করবেন।
তথ্যসূত্র:
1.0: Driver, co-driver suspended for halting bus “few extra minutes” to finish Islamic
prayer
https://tinyurl.com/rztpt4xm
১২ই জুন, ২০২৩
মালিতে জাতিসংঘের সামরিক কনভয়ে ত্যাম্বুশ: ৯ সেনা হতাহত
পশ্চিম আফ্রিকার দেশ মালিতে ২০১৩ সাল থেকে সামরিক আগ্রাসন চালাচ্ছে জাতিসংঘের (MINUSMA)
সামরিক জোট বাহিনী । সম্প্রতি দেশটির উত্তরাঞ্চলে ত্যাম্থশের কবলে পড়েছে এই জোট বাহিনীর একটি কনভয় ।
তবে কোনো সশস্ত্র বাহিনী এখন পর্যন্ত অফিসিয়ালি এই অভিযানের দায় স্বীকার করেনি।
স্থানীয় গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, গত ৯ জুন মালির টিমবুু রাজ্যে জাতিসংঘের টহলরত সামরিক কনভয়টি
আঘুশের শিকার হয়। কনভয়টি যখন বার শহরের কাছাকাছি পৌঁছে, তখন রাস্তায় পুঁতে রাখা একটি
ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইসে আক্রান্ত হয়। এরপর কনভয়ের অন্যান্য সৈন্যদের টার্গেট করে গুলি ছুঁড়তে
থাকে আক্রমণকারীরা।
7
আল-ফিরদাউস সংবাদ সমগ্র || জুন, ২০২৩ঈসায়ী
অপরদিকে MINUSMA কর্তৃক প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানানো হয় যে, এই
ঘটনায় তাদের ১ সৈন্য নিহত এবং অপর ৮ সৈন্য আহত হয়েছে।
উল্লেখ্য যে, এই অঞ্চলে আল-কায়েদার পশ্চিম আফ্রিকান শাখা জামা'আত নুসরাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমিন
(জেএনআইএম) এবং স্বাধীনতাকামী আজওয়াদ বিদ্রোহীরা সক্রিয়। তবে আজওয়াদ ও জাতিসংঘের মাঝে যেহেতু
ভালো সম্পর্ক রয়েছে, তাই ধারণা করা হচ্ছে অভিযানটি আল-কায়েদা সংশ্লিষ্ট 'জেএনআইএম' যোদ্ধারা পরিচালনা
করে থাকতে পারেন।
দুই মাসে টিটিপির হাতে ৩৫৮ পাক সেনা হতাহত
পাকিস্তানের বৃহত্তম সশস্ত্র ইসলামি প্রতিরোধ বাহিনী হচ্ছে তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (িটিপি)। সম্প্রতি
দলটির অফিসিয়াল আযাকাউন্ট থেকে তাদের সামরিক অভিযানের কিছু পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে। এতে চলতি
বছরের এপ্রিল ও মে মাসে পাকিস্তান জুড়ে টিটিপি পরিচালিত অভিযানগুলোর বিবরণ প্রকাশ করা হয়েছে।
টিটিপি কর্তৃক প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গত এপ্রিল ও মে মাসে মুজাহিদদের অভিযানগুলোতে পাকিস্তান সামরিক
বাহিনীর অন্তত ৩৫৮ সেনা হতাহত হয়েছে। এর আগে চলতি বছরের প্রথম ৩ মাসে টিটিপির হাতে পাকিস্তান
বাহিনীর হাতাহতের সংখ্যা ছিলো ৩৬৪ জন।
অভিযানগুলোর বিস্তারিত পরিসংখ্যান টিটিপির অফিসিয়াল আযাকাউন্ট ও ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়েছে। এতে
মুজাহিদদের অপারেশনগুলোর প্রকৃতি, অবস্থান এবং শত্রু বাহিনীর ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ দেখানো হয়েছে।
টিটিপির বর্ণনা অনুযায়ী, গত মে মাসে পাকিস্তানের ৭টি প্রদেশে সশস্ত্র বাহিনীগুলোর উপর মোট ৭৬টি অপারেশন
চালিয়েছে তারা । এর আগে, গত এপ্রিল মাসেও দেশটির ৭টি প্রদেশে আরও ৪৮টি সামরিক অপারেশন পরিচালনা
করেছেন মুজাহিদগণ।
এসব অভিযানের মধ্যে ৮টি টার্গেট কিলিং, ১৩টি গেরিলা যুদ্ধ, ১১টি সম্মুখ লড়াই, ৩৩টি শ্লাইপার অল্স, ১৪টি
অতর্কিত অপারেশন, ১৯টি বোমা বিস্ফোরণ, ২২টি জবাবি অভিযান ও ২টি মিসাইল হামলা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
মে মাসে টিটিপির অভিযানে পাক বাহিনীর ৮৭ সদস্য নিহত এবং আরও ১১৯ সদস্য আহত হয়েছে । আর এপ্রিল
মাসে নিহত হয়েছে ৭০ জন এবং আহত হয়েছে আরও ৮২ পাক সেনা । সব মিলিয়ে দুই মাসে মোট ১৫৭ সেনা
নিহত এবং ২০১ সেনা আহত হয়েছে।
এছাড়াও, মুজাহিদদের দেওয়া তথ্যমতে, টিটিপির বীরত্বপূর্ণ এসব অভিযানে শত্রু বাহিনীর ২টি সামরিক পোস্ট,
১১টি সাঁজোয়া যান এবং ১৪টি নজরদারি ক্যামেরা ধ্বংস করা হয়েছে। পাশাপাশি আরও অনেক সামরিক সরঞ্জাম
G
আল-ফিরদাউস সংবাদ সমগ্র || জুন, ২০২৩ঈসায়ী
পুড়িয়ে দিয়েছেন মুজাহিদগণ। আর গনিমত হিসাবে এসএমজি বন্দুক, ক্লাশিনকোভ, রাইফেল, আমেরিকান নাইট
ভিশন, এলজি অস্ত্র এবং গ্রেনেডসহ অসংখ্য গোলাবারুদ মুজাহিদদের হস্তগত হয়।
উল্লেখ্য যে, পূর্বের যেকোনো সময়ের তুলনায় টিটিপি বর্তমানে অনেক বেশি সুসংগঠিত তাদের অধীনে বর্তমানে
পাকিস্তানের ছোট-বড় ৪৫টি জিহাদি গ্রুপ এঁক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করছে।
কেনিয়ায় আশ-শাবাব: ২টি এলাকা বিজয়, ৩৬ শক্রসেনা হতাহত
পূর্ব আফ্রিকার দেশ কেনিয়ায় সম্প্রতি কয়েকটি সফল অপারেশন পরিচালনা করেছে আল-কায়েদা সংশ্লিষ্ট ইসলামি
প্রতিরোধ বাহিনী হারাকাতুশ শাবাৰ আল মুজাহিদিন। কেনিয়ার সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে পরিচালিত এসব
অভিযানের মাধ্যমে মুজাহিদগণ কেনিয়ার ২টি এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিতে সক্ষম হন। এতে কেনিয়ার অন্তত ৩৬
সৈন্যও নিহত হয়েছে বলে জানা গেছে।
আঞ্চলিক সূত্রমতে, গত ৩ জুন থেকে ৭ জুন পর্যন্ত কেনিয়ান সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে অন্তত ৬টি অভিযান
পরিচালনা করেছেন মুজাহিদগণ। এসব অভিযানে কেনিয়ান বাহিনীর কয়েক ডজন সৈন্য হতাহত হয়েছে।
হারাকাতুশ শাবাব সংশ্লিষ্ট শাহাদাহ এজেন্সির তথ্যমতে, গত ৩ জুন উত্তর-পূর্ব কেনিয়ার মান্দিরা অঞ্চলের এলিলি
এলাকায় কেনিয়ান সেনাদের একটি দলকে এম্কুশ করেন মুজাহিদগণ। এতে কেনিয়ান সামরিক বাহিনীর ৩ সৈন্য
নিহত এবং আরও ৮ সৈন্য আহত হয়েছে। সেই সাথে কেনিয়ান বাহিনীর একটি সামরিক যানও ধ্বংস হয়েছে।
একই দিন কেনিয়ার ওয়াজির অঞ্চলে দেশটির ক্রুসেডার সেনাদের একটি ঘাঁটিতেও অভিযান চালিয়েছেন
মুজাহিদগণ। অঞ্চলটির বুজোগার্স এলাকায় মুজাহিদগণ অভিযান শুরু করলে ক্রুসেডার সেনারা কোনো প্রতিরোধ
ছাড়াই ঘাঁটিটি ছেড়ে পালিয়ে যায়। ফলে মুজাহিদগণ খুব সহজেই এর নিয়ন্ত্রণ নেন।
মুজাহিদগণ আরেকটি সফল অভিযান পরিচালনা করেন কেনিয়ার লামু অঞ্চলের মাররানি এলাকায় । গত ৭ জুন
কেনিয়ান সেনাদের একটি দলকে টার্গেট করে বোমা বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। এতে কেনিয়ান বাহিনীর অন্তত ৪
সৈন্য নিহত এবং আরও ১০ সৈন্য আহত হয়।
একই দিন মান্দিরা অঞ্চলের আলুঙ্গা এলাকায় ভ্রমনকারী কেনিয়ান সেনাদের আরও একটি দলকে টার্গেট করে
অভিযান চালিয়েছেন মুজাহিদগণ। এতে মুজাহিদদের হাতে ৩ কেনিয়ান সৈন্য নিহত এবং আরও ৭ সৈন্য আহত
হয়। পাশাপাশি এই অভিযানে কেনিয়ান সেনাদের ২টি সাঁজোয়া যানও ধ্বংস হয়ে যায়।
এর আগে গত ৬ জুন, কেনিয়ার ওয়াজির অঞ্চলের উগরালি এলাকার নিয়ন্ত্রণ নেন মুজাহিদগণ। এই এলাকায়
কেনিয়ার বাহিনীর একটি সামরিক ঘাঁটিতে অভিযানের পর এলাকাটি মুজাহিদদের নিয়ন্ত্রণে আসে। এতে কেনিয়ান
সেনাদের অন্তত একজন নিহত হয়েছে।
7
আল-ফিরদাউস সংবাদ সমগ্র || জুন, ২০২৩ঈসায়ী
১১ই জুন, ২০২৩
আল-ফিরদাউস সংবাদ সমগ্র || মে, ২০২৩ ঈসায়ী ||
https://alfirdaws.org/2023/06/11/63397/
০৮ই জুন, ২০২৩
ফটো রিপোর্ট || মাসাগাওয়ে শহর বিজয়ে শাবাব কর্তৃক অস্ত্রের বিশাল বড় মজুদ উদ্ধার
সোমালিয়ার রাজধানী মোগাদিশু থেকে প্রায় ২৭০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে অবস্থিত মাসাগাওয়ে শহরে গত সপ্তাহে
একটি জোরদার সামরিক অভিযান পরিচালনা করে এটির নন্ত্রন গ্রহণ করেছেন হারাকাতুশ শাবাব আল-
মুজাহিদিন।
স্থানীয় সূত্রমতে, ইরিত্রিয়ায় প্রশিক্ষিত সৈন্য এবং স্থানীয় মিলিশিয়াদের দ্বারা পরিচালিত একটি সামরিক ঘাঁটিতে
অভিযানের মধ্য দিয়ে শহরটি বিজয়ের ধারা শুরু হয়। কয়েক ঘন্টার তীব্র লড়াইয়ে সোমালি স্পেশাল ফোর্সের
অন্তত ১৪৯ সৈন্য নিহত হয়। (আন-অফিসিয়াল সূত্ৰমতে নিহতের সংখ্যা ২০৯ জন) এবং আরও অসংখ্য আহত
হয়। নিহতদের মধ্যে অনেক সেনার মৃতদেহই ঘাঁটিতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে থাকতে দেখা গেছে।
অভিযান শেষে ঘাঁটি থেকে মুজাহিদগণ ৫টি সাঁজোয়া যান ও একটি সামরিক ট্রাক জব্দ করেন, যা ছিলো খাবার
ও সামরিক সরঞ্জাম দ্বারা পরিপূর্ণ । এছাড়াও মুজাহিদগণ ঘাঁটিটি থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্রশস্ত্র ও গোলাবারুদ
উদ্ধার করেছেন।
সামরিক ঘাঁটি ও শহর বিজয়ের পর শত্রু বাহিনী থেকে উদ্ধার করা অস্ত্রের বিশাল বড় মজুদের কিছু দৃশ্য...
https://alfirdaws.org/2023/06/08/63385/
আল-ফিরদাউস সংবাদ সমগ্র || জুন, ২০২৩ঈসায়ী
০৬ই জুন, ২০২৩
ওড়িশার ট্রেন দুর্ঘটনা: সাম্প্রদায়িক উস্কানি দিচ্ছে হিন্দুত্ববাদীরা
ভারতের পূর্বাঞ্চলের ওড়িশা রাজ্যের বালাসোর এলাকায় গত শুক্রবার রাতে তিনটি ট্রেনের ভয়াবহ সংঘর্ষ হয়।
ওড়িশার রাজধানী ভুবনেশ্বর থেকে ২০০ কিলোমিটার দূরে এ দুর্ঘটনাটি ঘটে। ভয়াবহ এই ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহত
মানুষের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৮৮ এবং আহত হয়েছে ১,১০০ জনেরও বেশি। ওড়িশা ফায়ার সার্ভিসের
মহাপরিচালক সুধাংশু সারেঙ্গি এএফপিকে এ তথ্য জানিয়েছে।
বলা হচ্ছে, ভারতে গত ২০ বছরের বেশি সময়ের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনা এটি কিন্তু দুঃখজনক
বিষয় হচ্ছে, কিছু উগ্র হিন্দুত্ববাদী লোক সোশ্যাল মিডিয়াতে এই ট্রেন দুর্ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে মুসলিম-বিরোধী
উস্কানি দেওয়ার চেষ্টা করছে।
হিন্দুত্ববাদী সোশ্যাল মিডিয়া একাউন্টগুলো থেকে একটি ছবি শেয়ার করা হয়েছে। দুর্ঘটনাস্থলের কাছে একটি
মন্দিরকে মসজিদ হিসেবে উপস্থাপন করে দুর্ঘটনাটিকে একটি মুসলিম-বিরোধী রুপ দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে
তারা । এই গুজবের মাধ্যমে হিন্দুত্ববাদীরা প্রচার করার চেষ্টা করছে যে, মুসলমানরা এই দুর্ঘটনা ঘটিয়েছে।
টুইটারের এমন পোস্ট নিয়ে ওড়িশা পুলিশ বলেছে, “লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, কিছু সোশ্যাল মিডিয়া একাউন্ট চক্রান্ত
করে বালাসোরের মর্মান্তিক ট্রেন দুর্ঘটনাকে সাম্প্রদায়িক রঙ দিচ্ছে। এটা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক...আমরা সংশ্লিষ্ট
সকলের কাছে এ ধরনের মিথ্যা ও অসৎ উদ্দেশ্যমূলক পোস্ট প্রচার করা থেকে বিরত থাকার জন্য আবেদন
করছি। যারা গুজব ছড়িয়ে সাম্প্রদায়িক বিভেদ সৃষ্টির চেষ্টা করছে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া
হবে।”
দুর্ঘটনার পরদিন বিকেলে, 90791700775919 নামে একটি টুইটার ত্যাকাউন্ট দুর্ঘটনাস্থলের এ ছবিটি পোস্ট করা
হয়। একটি চিহ্ন দিয়ে গম্বজসহ একটি সাদা নির্মাণাধীন কাঠামোর দিকে নির্দেশ করে এবং ক্যাপশন দিয়েছে,
“শুধু বলছি...গতকাল শুক্রবার ছিল।”
এর দ্বারা ইঙ্গিত করা হচ্ছে যে, বিল্ডিংটি একটি মসজিদ, শুক্রবারে মুসলমানদের বড় জমায়েত হয় এবং মুসলিমরা
এই দুর্ঘটনা ঘটিয়েছে। টুইটটি প্রায় ৪০ লাখেরও বেশি ভিউ হয়েছে এবং প্রায় ৪৫০০ রিটুইট পেয়েছে।
এমনিভাবে, @RajputRanjanaa, @RealVirendraBJP, @abbajabbadabba4, @VIRALKI44722069
এবং প্যারোডি ্যাকাউন্ট @mdallahwala সহ অন্যান্য অনেক একাউন্ট থেকে একই ছবি টুইট করা হয়েছে।
সোশ্যাল মিডিয়াতে ভাইরাল হওয়া এ ছবিতে দুর্ঘটনাস্থলের পাশেই একটি নির্মাণাধীন কাঠামোকে মসজিদ হিসেবে
চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে ফ্যাক্ট-চেকিং বিভিন্ন ওয়েবসাইট ইতোমধ্যে নিশ্চিত করেছে যে, কাঠামোটি মসজিদের
নয়, বরং একটি ইস্কন মন্দির ৷
0)
আল-ফিরদাউস সংবাদ সমগ্র || জুন, ২০২৩ঈসায়ী
ফ্যাক্ট-চেকিং ওয়েবসাইট 41৬5 উল্লেখ করেছে যে, ভবনটি আসলে একটি মন্দির যা ইসকন দ্বারা পরিচালিত।
“আমরা সাংবাদিক তমাল সাহার সাথে যোগাযোগ করেছি, যিনি বর্তমানে বাহানাগায় দুর্ঘটনাস্থলে রয়েছেন। তিনি
অল্ট নিউজকে নিশ্চিত করেছেন যে, দুর্ঘটনাস্থলের পাশের কাঠামোটি আসলেই একটি মন্দির। আরও অনুসন্ধান
করার পরে, আমরা দেখতে পেলাম যে মন্দিরটি ছিল বাহানাগা ইসকন মন্দির । পাঁচ মাস আগে আপলোড করা
এই মন্দিরের একটি ইউটিউব ভিডিও থেকেও দেখা যাচ্ছে যে, কাঠামোটি সাদা রঙের এবং সেই সময়েও এটি
নির্মাণাধীন ছিল।”
তথ্যসূত্র:
1. Train tragedy: Hindutva handles spread Islamophobia, Odisha police warns strict action
-https://tinyurlL.com/5n86fctk
সাহসী মুসলিম যুবকের গুলিতে ৩ ইসরাইলী সেনা নিহত, আহত ২
মিশরের সিনাই উপদ্বীপের কাছাকাছি ইসরাইল সীমান্তে সম্প্রতি উত্তেজনা বেড়েছে। সেখানে গত ৩ জুন সকালে
সিনাই উপদ্বীপের নিতজানা বর্ডার গেটের কাছে সশস্ত্র এক হামলার ঘটনায় ৩ ইসরাইলী সৈন্য নিহত হয়েছে
বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্র থেকে জানা যায়, গত ৩ জুন ভোরের আগে মিশর-ইসরাইল সীমান্তের নিতজানা এবং আল-আওজা
সীমান্ত ক্রসিংয়ের কাছে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। সামরিক ইউনিফর্মে একজন মিশরীয় যুবক দেড় কিলোমিটার
সীমান্ত পেরিয়ে ইসরায়েলের দখলকৃত ভূখন্ডে প্রবেশ করলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পরে।
যারা তখন উক্ত সীমান্তে সামরিক টাওয়ার পাহারা দিচ্ছিল। এই ঘটনায় সেখানে পুরুষ ও মহিলা ২ ইহুদি সৈন্য
নিহত হয় এবং অন্যরা আহত হয়।
এরপর মিশরীয় যুবক অন্য ইহুদি সৈন্যদের হত্যা করার আশায় তাদের আগমনের পর্যন্ত উক্ত সীমান্তে অপেক্ষা
করতে থাকেন। এর কয়েক ঘন্টা পর সেখানে আরও ইহুদি সেনার আগমন ঘটে, সাহসী এ মুসলিম যুবক তখন
দ্বিতীয় দফায় তাদের সাথে লড়াইয়ে অবতীর্ণ হন ৷ নিজে শহীদ হওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি আরও ১ ইহুদী সৈন্যকে
হত্যা এবং অন্যদের আহত করতে সক্ষম হন।
সূত্রমতে, হামলাকারী উক্ত যুবকের নাম মুহাম্মদ সালাহ। তিনি মিশরীয় সামরিক বাহিনীর একজন সৈনিক
ছিলেন। ইসরাইলী সামরিক সূত্র জানিয়েছে, মুহাম্মাদ সালাহ মোট ৩ জন ইহুদি সৈন্যকে হত্যা করতে সক্ষম
হয়েছেন এবং আরও অনেককে আহত করে নিজেও শহীদ হয়েছেন।
7
আল-ফিরদাউস সংবাদ সমগ্র || জুন, ২০২৩ঈসায়ী
মালিতে শত্রুর ভিত কাপিয়ে আল-কায়েদার ৫৭ অভিযান
বিগত কয়েক মাস ধরেই পশ্চিম আফ্রিকার দেশ মালিতে সামরিক অপারেশন জোরদার করেছে আল-কায়েদা
পশ্চিম আফ্রিকা সংশ্লিষ্ট ইসলামি প্রতিরোধ বাহিনী জেএনআইএম। তবে মুজাহিদদের আক্রমণের ধরণ ও প্রচার
কৌশলে ভিন্নতা পরিলক্ষিত হচ্ছে।
স্থানীয় গণমাধ্যম সুত্রে জানা যায়, 'জেএনআইএম' মুজাহিদিন গত ১ এপ্রিল থেকে ২১ মে পর্যন্ত মালিতে অন্তত
৫৭টি অভিযান পরিচালনা করছেন। তবে দলটির অফিসিয়াল সংবাদ মাধ্যম "আয-যাল্লাকা" এসময়ের মাঝে,
বিশেষ করে গত শাওয়াল মাসে মাত্র ২১টি অভিযানের তথ্য নিশ্চিত করেছে। কৌশলগত কারণেই তাঁরা হয়তো
অনেকগুলো গুরত্বপূর্ণ অভিযানে শত্রু বাহিনীর হতাহতের সুনির্দিষ্ট সংখ্যাও এড়িয়ে গেছন।
উদাহরণস্বরূপ, এসময়ের মাঝে জেএনআইএমের প্রতিরোধ যোদ্ধারা তাদের সবচেয়ে বড় অভিযানটি পরিচালনা
করছেন গত ২২ এপ্রিল। মাসিনা রাজ্যে রাশিয়ান ওয়াগনার বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকা 'সেওয়ারি' সামরিক
বিমানবন্দর ও এর আশেপাশে অবস্থিত জাতিসংঘ এবং মালিয়ান সামরিক ব্যারাকগুলিতে ২জন ইস্তেশহাদী
মুজাহিদ ও ৩০ জন ইনগিমাসী যোদ্ধা একযোগে আক্রমণ চালান বলে জানা যায়। দুই ঘন্টার এই অভিযানে ২৫
রাশিয়ান ওয়াগনার সেনা সহ অন্তত দেড় শতাধিক (১৫০) মালিয়ান সেনা হতাহত হয়। ধ্বংস করা হয়
বিমানবন্দরে থাকা ৮টি হেলিকপ্টার ও বিমান, সামরিক বাহিনীর বিশাল অস্ত্রের মজুত, অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম
ও লজিস্টিক্যাল গুদাম ৷ মুজাহিদদের মাঝে ১৫ জন শত্রু বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়তে লড়তে শাহাদাত বরণ করেন,
বাকিরা অভিযান সম্পন্ন করে নিরাপদে ঘাঁটিতে ফিরে আসেন।
'জেএনআইএম' এর অফিসিয়াল সূত্র থেকে জানা যায়, বিমানবন্দরে পরিচালিত অভিযানটি ছাড়াও গত শাওয়াল
মাসে মুজাহিদদের পরিচালিত বাকি ২২টি অভিযানে দখলদার বাহিনী ও তাদের সমর্থিত মালিয়ান সামরিক
বাহিনীর অন্তত ৮৯ সেনা নিহত হয়, আর আহত সেনাসংখ্যা কমপক্ষে ২১ জন। এই অভিযানগুলিতে শত্রু
বাহিনীর বিভিন্ন ধরনের ১৮টি সাঁজোয়া যান ধ্বংস করতে সক্ষম হন মুজাহিদগণ।
অপরদিকে মুজাহিদগণ গনিমত হিসাবে জব্দ করেন ৬টি সাঁজোয়া যান, ১০৮টি মোটরসাইকেল, ১৫টি আরপিজি,
১৩৫টি মাঝারি অস্ত্র এবং ৮টি পিস্তল। মুজাহিদগণ এক সেনা সদস্যকে বন্দী করতেও সক্ষম হন।
পশ্চিম আফ্রিকার যুদ্ধ পর্যবেক্ষণ করছেন এমন সামরিক বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, জেএনআইএম মুজাহিদগণ
শাওয়াল মাস পরবর্তী গত মে মাসের ২১ থেকে ৩১ তারিখ পর্যন্ত এবং মার্চ মাসের প্রথম দশকে মালিতে বড়সড়
আরও ৫টি অভিযান এবং ছোট-বড় অন্তত ৩৫টি অভিযান পরিচালনা করেছেন। এসকল অভিযানেও আরও
অসংখ্য দখলদার ও মিলিশিয়া সেনা হতাহত হয়েছে।
আল-ফিরদাউস সংবাদ সমগ্র || জুন, ২০২৩ঈসায়ী
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে মালির জান্তা সরকারি বাহিনীর অধিনে দেশের মাত্র ১০ শতাংশ অঞ্চলের
পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে, যেখানে আল-কায়েদা সহ অন্যান্যদের নিয়ন্ত্রণে দেশের ৯০ শতাংশ এলাকা। অথচ এমন
পরিস্থিতিতে পুনরায় নির্বাচনের কথাও ভাবছে সরকার।
বিষয়টি আরও স্পষ্টভাবে বুঝতে উপরে দেওয়া মালির ও বুরকিনা ফাসো সহ পশ্চিম আফ্রিকার এই সাম্প্রতিক
ম্যাপটি দেখতে পারেন। মানচিত্রে স্পষ্টই দেখা যাচ্ছে যে, মালি ও বুরকিনা ফাসো ছাড়াও প্রতিবেশি দেশগুলোর
সীমান্ত এলাকার উপর আল-কায়েদা নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছে। এর বাইরে সামান্য কিছু
এলাকাই দখল করে রেখেছে সরকারি বাহিনী, আঞ্চলিক মিলিশিয়া ও আইএস।
এমন পরিস্থিতিতে অগ্নেক বিশ্লেষক বলছেন, আল-কায়েদার সবচাইতে সক্রিয় এবং শক্তিশালী শাখা হিসাবে
আশ-শাবাবকে মনে করা হলেও, পশ্চিম আফ্রিকার 'জেএনআইএম' তাদের চেয়ে কোনো অংশে পিছিয়ে নেই।
অনেকাংশে এটি বর্তমানে হারাকাতুশ শাবাবকেও ছাড়িয়ে গেছে। হারাকাতুশ শাবাব এখন পর্যন্ত কেনিয়ায় ও
সোমালিয়ায় তাদের সামরিক অভিযান সীমাবদ্ধ রাখলেও জেএনআইএম' এর টার্গেট পুরো পশ্চিম আফ্রিকা ।
আল-ফিরদাউস নিউজ বুলেটিন || জুন ১ম সপ্তাহ, ২০২৩ ঈসায়ী
https://alfirdaws.org/2023/06/06/63325/
০২রা জুন, ২০২৩
মুসলিমদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরতে হিন্দু নারীদের আহ্বান জানিয়েছে বিজেপি প্রচারিকা
সম্প্রতি, ভারতের গুজরাটে এক জনসভায় হিন্দু নারীদেরকে মুসলিমদের বিরুদ্ধে উস্কানি দিয়েছে কাজল সিংগালা
ওরফে কাজল হিন্দুস্তানী। নিজেদের মর্যাদা, ধর্ম এবং জাতিকে রক্ষা করার জন্য হিন্দু নারীদেরকে অস্ত্র হাতে
তুলে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে কাজল সিংগালা।
গুজরাটের অধিবাসী কাজল একজন হিন্দুত্ববাদী ধারণার প্রচারিকা এবং বিজেপি কর্মী হিসবে সোশ্যাল মিডিয়া
ও বিভিন্ন জনসভায় বক্তব্য প্রদান করে থাকে । ভারতের সাধারণ হিন্দুদের উদ্দেশ্য করে এই মহিলা একের পর
এক মুসলিম বিরোধী উস্কানিমূলক বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছে।
কাজলের এসব উস্কানিমূলক বক্তব্যের প্রধান এজেন্ডা হচ্ছে হিন্দু নারীদেরকে দেবী কালীর রূপ ধারণ করতে
বলা, তাদের সামনে মুসলিমদেরকে অসুর হিসেবে তুলে ধরা। উল্লেখ্য, হিন্দুদের বিশ্বাস কালী দেবী অসুরদের
7
আল-ফিরদাউস সংবাদ সমগ্র || জুন, ২০২৩ঈসায়ী
হত্যা করেছিল। তাই হিন্দু নারীদের মধ্যে একধরনের মিথ্যা অনিরাপত্তাবোধ জাগিয়ে তুলে, তাদেরকে মুসলিমদের
বিরুদ্ধে অস্ত্র তুলে নিতে আহ্বান জানাচ্ছে কাজল সিংগালা।
কাজল প্রধানত গুজরাটি ভাষায় বক্তব্য দেয়। তার সভাগুলোতে প্রায়ই ৩-৪টি মুসলিম বিদ্বেষী কবিতা পুনরাবৃত্তি
করে হিন্দু সম্প্রদায়কে উস্কে দেওয়ার চেষ্টা করছে সে।
গুজরাটের উনা শহরে রাম নবমী উপলক্ষে গত ৩০ শে মার্চ একইভাবে উস্কানিমূলক বক্তৃতা দিয়েছিল কাজল
সিংগালা। পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুসারে, সেই বকৃতার পর উনায় উত্তেজনা তৈরি হয়। প্রায় ২০০ উগ্র হিন্দুত্ববাদী
জড়ো হয়ে পথচারী ও মুসলিমদের বাড়িতে পাথর ও কাঁচের বোতল নিক্ষেপ করে সহিংসতা চালিয়েছিল।
এরপর কাজল সিংগালাকে গ্রেফতার করা হলেও কয়েকদিন পরেই সে জেল থেকে বেরিয়ে আসে।
1. Gujarat: Kajal Hindusthani delivers two anti-Muslim speeches, urges Hindu women to
take up arms -https://tinyurlL.com/3j3h4ysp
হেলমান্দ নদীর পানি নিয়ে ইরান-আফগান সীমান্তে তীব্র গোলাগুলি
ইমারাতে ইসলামিয়া আফগানিস্তান ও আফগানিস্তানের প্রতিবেশি শিয়া প্রধান দেশ ইরানের মাঝে বেশ কিছুদিন
ধরেই হেলমান্দ নদীর পানি বণ্টন নিয়ে চলছে বিরোধ । এই পানি নিয়েই দু-দেশের সীমান্তরক্ষীদের মাঝে ঘটেছে
তীব্র গোলাগুলির ঘটনা । এতে উভয় পক্ষেই প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, ২৭ মে আফগানিস্তানের নিমরোজ প্রদেশের কাং জেলার ২টি সীমান্ত এলাকায়
এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এসময় উভয় দেশের সীমান্তরক্ষীদের মাঝে ভারী গোলাগুলির ঘটনা ঘটে।
https://k.top4top.io/p_2705ixt4l2.jpg
তালিবান সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, প্রথমে ইরানি সীমান্তরক্ষীরা আফগানিস্তানের দিকে গুলি বর্ষণ করে। এতে
আফগান বাহিনী পাল্টা আঘাত হানতে শুরু করেন। এতে সংঘর্ষ তীব্র আকার ধারণ করে।
https://c.top4top.io/p_2705rhz7c6.png
আল-ফিরদাউস সংবাদ সমগ্র || জুন, ২০২৩ঈসায়ী
তালিবান সমর্থিত গণমাধ্যমগ্তলো জানিয়েছে, আফগান সেনাদের হাতে ইরানের একজন উচ্চপদস্থ কমান্ডার বন্দী
এবং অন্তত ২৩ সীমান্তরক্ষী নিহত হয়েছে। পাশাপাশি আহত হয়েছে আরও অনেক সৈন্য। বিপরীতে একজন
আফগান সেনা শাহাদাত বরণ করেন এবং আরও ২ জন আহত হন।
https://i.top4top.io/p_2705ekjpho.png
ছবি: হিন্দুস্তান টাইমস
এদিকে সংঘর্ষ তীব্র আকার ধারণ করলে, উভয় দেশের কর্তৃপক্ষই সংঘর্ষ বন্ধে পদক্ষেপ গ্রহণ করে। পরবর্তিতে
উভয় পক্ষের আলোচনার সাপেক্ষে সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে আসে । তারপর সেখানকার সীমান্ত গেইট খুলে দেওয়া হয়।
উল্লেখ্য যে, হেলমান্দ নদীর পানি বণ্টন নিয়ে ইরান ও ইমারাতে ইসলামিয়া প্রশাসনের মধ্যে বেশ কিছুদিন ধরেই
উত্তেজনা বিরাজ করছিল। মূলত, আফগানিস্তান থেকে ইরানে প্রবাহিত হেলমান্দ নদীর পানি উল্লেখযোগ্য ভাবে
হাস পেয়েছে।
পানির প্রবাহ কমার কারণ হিসেবে ইমারাতে ইসলামিয়া প্রশাসন দাবি করেছে যে, প্রাকৃতিক ভাবেই এই অঞ্চলের
নদীগুলোতে পানির পরিমাণ কমে গেছে। অন্যদিকে, ইরানি প্রশাসন দাবি করছে যে, হেলমান্দ নদী ও খালের
উপর ইমারাতে ইসলামিয়া প্রশাসন বাঁধ নির্মাণ করে পানি আটকে রাখছে। তবে পানি আটকে রাখার অভিযোগ
ইমারাতে ইসলামিয়া প্রশাসন বরাবরই নাকচ করে আসছে।